কারখানার শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ
গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার প্রায় শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকরা একের পর এক অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন, তার সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের তীব্র বাঁধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরা, এমনকি তাদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ রোগীদের খোঁজখবর নিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।
কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা জানান, কিছুদিন পূর্বে যে ফ্লোরে ছুটি না পেয়ে অসুস্থ অবস্থায় লিজা বেগম নামে এক নারী শ্রমিক কর্মস্থলে মারা গিয়েছিলেন, আজ ঠিক সেই ফ্লোরেই হঠাৎ করে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়তে থাকেন। তবে ঠিক কী কারণে এমনভাবে শ্রমিকরা অসুস্থ হচ্ছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বলতে পারেননি।
মনিরা নামে এক শ্রমিক বলেন, হঠাৎ করে সবার বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরানোসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। একটি ফ্লোরের প্রায় সব শ্রমিক একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেকেই ফ্লোরে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিক আশিকুর রহমান সবুজ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে কারখানার সামনে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
শ্রীপুরের আলহেরা হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আবুল হোসাইন বলেন, হাসপাতালে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তি হওয়া অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে প্রধানত বমি ও মাথা ঘোরানোর লক্ষণ দেখা গেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথেই আমি হাসপাতালে অসুস্থ শ্রমিকদের দেখতে যাই এবং তাদের সব ধরনের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছি। কারখানার ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল এবং শ্রমিকদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)