কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে
টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে।
পানির স্বল্পতা কাটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট একযোগে চালু করা হয়েছে বলে মুঠোফোনে বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৪৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাসসকে আরো জানান, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই লেকের পানির লেভেল সন্তোষজনক হারে বাড়ছে। পানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের উৎপাদন সচল রাখতে আমরা মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই একসাথে চালু করতে সক্ষম হয়েছি।’
এদিকে কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯.৮৬ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। যদিও রুলকার্ভ (পানির পরিমাপক নির্দেশিকা) অনুযায়ী বছরের এই সময়ে লেকে পানি থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ, রুলকার্ভের চেয়ে এখনও কিছুটা কম পানি থাকলেও বর্তমান প্রবাহ উৎপাদন সচল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।
কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, চালু হওয়া ৫টি ইউনিট থেকে বর্তমানে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এরমধ্যে: ইউনিটভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিত্র: ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট থেকে ৩২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৪ মেগাওয়াট। ৩ নম্বর ইউনিট ইউনিট থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৩০ মেগাওয়াট, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট থেকে ২৫ মেগাওয়াট করে মোট ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই ৫টি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বা ইনস্টলড ক্যাপাসিটি হলো ২৪২ মেগাওয়াট (পিক আওয়ারে যা ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ধরা হয়)। পানির স্তর আরও বাড়লে উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকৌশলীরা আরও জানান, তীব্র খরা ও লেকের পানি আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ার কারণে বিগত কয়েক মাস ধরে এখানে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছিল। বাধ্য হয়ে কখনো ১টি বা সর্বোচ্চ ২টি ইউনিট চালু রেখে নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির সুবাদে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটে। গত ৬ জুলাই ৩টি ইউনিট এবং গতকাল মঙ্গলবার রাতে ৫টি ইউনিটই ধাপে ধাপে চালু করা হয়।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকে পানির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ১০৮ ফুট এমএসএল। পাহাড়ি ঢলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে লেকের পানির স্তর স্বাভাবিক রূপ নেবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)