সাতকানিয়ায় লাখো পরিবার পানিবন্দি, বাড়ছে দুর্ভোগ
টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। সাঙ্গু নদীর উপচেপড়া পানি এবং সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণের ফলে উপজেলার ছদাহা, কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কাঞ্চনা, ঢেমশা, সাতকানিয়া সদর, খাগরিয়া, চরতী, সোনাকানিয়া ও পশ্চিম ঢেমশাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের লাখো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা এবং প্রতিবেশীদের উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেক পরিবারেই এখন তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে এই মুহূর্তে শুকনো খাবার ও চালের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী সার্বক্ষণিকভাবে এলাকায় অবস্থান করছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গত ইউনিয়নগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যার্তদের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করে চলেছেন।
ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারিভাবে শুকনো খাবারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বানভাসি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এদিকে, শনিবার চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমদ তার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেঁওচিয়া, ধর্মপুর ও বাজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, উপজেলার কিছু কিছু এলাকা থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভেসে উঠছে ভাঙাচোরা সড়ক, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের মাঠ। পানি কমলেও স্থানীয়দের মাঝে এখন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্গত এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, চলমান জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য যেন দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম