খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাগড়াছড়ির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জলমগ্ন অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। প্লাবিত সড়ক, বাজার ও বাসাবাড়ি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন একে একে নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে খোলার প্রস্তুতি চলছে বন্যায় বন্ধ থাকা দোকানপাটও।
তবে দীঘিনালার বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। ফলে প্রায় ১ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে থাকায় দীঘিনালার সাথে রাঙমাটির লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত তিন দিন ধরে পাহাড় ও সমতলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। মাঝে মাঝে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও নতুন করে কোনো ভারী বর্ষণ দেখা যায়নি। যার ফলে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এদিকে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগে থাকা মানুষের পাশে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ ব্যক্তিবর্গ।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, মেরুং ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এখনও লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসি মানুষের মাঝে খাবারসহ সব ধরনের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। দীঘিনালা-মেরুং-লংগদু সড়কের সোবহানপুর হেডকোয়ার্টার এলাকায় এখনও রাস্তার ওপর ২ ফুটের বেশি পানি জমে আছে। এই পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত যান চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি