খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, মৃত্যুঝুঁকিতে বিদ্যালয়ের ১০৭ শিশু
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাত্রপাড়া গ্রামের পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে ভবনটির চারপাশে নতুন করে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের ১০৭ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, ছাদ চুইয়ে পানি পড়া এবং দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। পড়ার কারণে শ্রেণিকক্ষগুলো অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। সামান্য শব্দ হলেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসছেন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ঐশী ও তানিশা আক্তার মেঘলা জানায়, বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে বালু-সুরকি খসে পড়ায় তারা সবসময় ভয়ের মধ্যে ক্লাস করছে। একই অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুনের বাবা টিপু সুলতান এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু দারদার বাবা গোলাম রেজা। তারা দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ভারি বর্ষণের পর ভবনের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ১০৭ শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকিতে রেখে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প স্থানে ক্লাসের ব্যবস্থা এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ভবনটি পাঠদানের অনুপযোগী হলে নিরাপদ বিকল্প স্থানে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)