২ মাসের শিশুর পাশে চিরকুট লিখে মা-বাবার আত্মহত্যা
দুই মাসের শিশু সন্তানের পাশে একটি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক দম্পতি। বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি বসতঘর থেকে ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলার পূর্ব রাজৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আত্মহত্যা করা দম্পতি হলেন মৎস্যজীবী কবির হাওলাদার (৩৫) ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম (২৮)। তাদের মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে লেখা, তাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
চিরকুটের লেখা, ‘ আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দিও। আমি কবির ও আমার বউ হালিমা। আমরা চলে জাচ্ছি (যাচ্ছি) মানুশিক (মানসিক) … আর পেশার নিতে পারছি না। তাই আমরা চলে যাব এমন জায়গায় আর ফিরে আসব না। এতে কারো কোনো হাত নেই। আমরা আমাদে (আমাদের) ইচ্ছেতেই জাইতে আছি (যাচ্ছি)। এতে শবাই (সবাই) শুখে (সুখে) থাকবে। ইতি, কবির’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কবির ও হালিমা দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে তাদের ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তানটি পাশের ঘরে তার দাদির সঙ্গে ঘুমিয়েছিল। আজ সকালে ওই দম্পতির ঘর থেকে তাদের দুই মাস বয়সী ছেলে শিশুর একটানা কান্নার আওয়াজ শুনতে পান পরিবারের অন্য সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে তাদের কোনো সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে বিছানায় শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যায় এবং তার পাশেই পড়ে ছিল মা-বাবার নিথর দেহ।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় ও স্বজনদের ধারণা, আর্থিক অনটনের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক এই বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর কবির নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

জাহিদ হিমেল, বাগেরহাট (শরণখোলা)