মৃত ব্যক্তিও সমবায় সমিতির সদস্য
মারা গেছেন ৪-৫ বছর আগে, অথচ সরকারি নথিপত্রে তিনি এখনও জীবিত এবং একটি সমবায় সমিতির সক্রিয় সদস্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ঘটেছে এমনই এক নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, মৃত ব্যক্তিদের সদস্য বানিয়ে, অন্যের নাম-পরিচয় এবং ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একের পর এক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠন করেছেন জেলা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। এমনকি কাঙ্ক্ষিত ঘুষ না দেওয়ায় কয়েকটি সমিতির নিবন্ধন আটকে রাখার মারাত্মক অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এই সিন্ডিকেটের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে নাচোল উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান এবং অফিস সহায়ক আজিজুল হকের নাম উঠে এসেছে। তাদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ফিরিস্তি তুলে ধরে সমবায় অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নাচোল উপজেলার নেজামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. এমতাজ উদ্দিন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক সোলাইমান বেগ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঘটনাটি তদন্তের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি নিবন্ধিত ‘ঘিওন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’র ১৫ নম্বর সদস্য হিসেবে শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম রয়েছে, যিনি প্রায় ৪-৫ বছর আগেই মারা গেছেন। এছাড়া সমবায় নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একই ব্যক্তিকে একাধিক সমিতির বড় পদে বসানো এবং ভুক্তভোগীদের অজান্তেই তাদের নাম ও ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সমিতি নিবন্ধনের প্রমাণ মিলেছে। সরকারি সময় শেষ হওয়ার পর বিকেলে ও সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে এসব সমিতির সনদ প্রিন্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি জলমহাল ও বরাদ্দ হস্তগত করতেই এই ভুয়া সমিতিগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, উপজেলা কার্যালয় থেকে সমিতি নিবন্ধনের জন্য জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কোথাও অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
নাচোল উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দ বলেন, নিবন্ধন দেন জেলা কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের উপ-নিবন্ধক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগেও একই ধরনের একটি অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জোহরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (নাচোল)