পীরগঞ্জ পৌরসভার সচিবের বিরুদ্ধে জি.আর চাল কম দেওয়ার অভিযোগ
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত জি.আর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভায়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীর ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১০ কেজি করে। এতে শত শত কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পৌর প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অগ্নিকাণ্ড, কালবৈশাখী ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জি.আর. কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পীরগঞ্জ পৌরসভার সচিবের নামে ৬৮০ কেজি চালের ডিও অনুমোদন করা হয়। সেই হিসেবে ৩৪ জন সুবিধাভোগীর প্রত্যেকের ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা ছিল।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ডিজিটাল স্কেলে ২০ কেজি ওজন করে দেওয়ার পরিবর্তে ৩০ কেজির একটি বস্তা তিনজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ফলে প্রত্যেকে পান মাত্র ১০ কেজি করে চাল। এতে ২৭ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয় ২৭০ কেজি চাল। বাকি ৪১০ কেজি চাল কোথায় গেছে—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী ৮০ বছর বয়সী ছায়েরন বেগম বলেন, ২০ কেজি চাল পেলে কয়েক সপ্তাহের খাদ্যের নিশ্চয়তা মিলত। কিন্তু আমি পেয়েছি মাত্র ১০ কেজি চাল।
আরেক ভুক্তভোগী শিখা বেগম জানান, প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার নামে ২০ কেজি চাল বরাদ্দ ছিল। অথচ হাতে পেয়েছেন মাত্র ১০ কেজি। দিনমজুর বেবি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গরিবের হক মারতে সবাই হা করে থাকে।’
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ পৌরসভার পৌর সচিব আব্দুর রহমান রহিম ১০ কেজি করে চাল বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, পীরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. রতন মিয়া (পীরগঞ্জ-মিঠাপুকুর), রংপুর