জুলাই শহীদ সাংবাদিকদের এখনও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, থমকে বিচারপ্রক্রিয়া
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত সাংবাদিকদের মেলেনি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। একই সঙ্গে থমকে আছে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া। তদন্তে ধীরগতি আর আইনি মারপ্যাঁচে খুনিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ সাংবাদিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তঝরা দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এর মধ্যে ১৯ জুলাই সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন দৈনিক নয়া দিগন্তের সাংবাদিক আবু তাহের মোহাম্মদ তুরাব (এটিএম তুরাব)। এছাড়া সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক প্রদীপ কুমার ভৌমিক এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে লোকালয় বার্তার সোহেল আখঞ্জিসহ একাধিক সাংবাদিক বুলেটের আঘাতে প্রাণ হারান।
গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এই শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সম্মাননা বা খেতাব দেওয়ার ঘোষণা আসেনি। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া। অধিকাংশ মামলার আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা।
নিহত সাংবাদিকদের অনেকেই ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দীর্ঘ দুই বছরেও স্থায়ী পুনর্বাসন বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় অনেক পরিবার এখন চরম অসহায়ত্ব আর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন বাংলাদেশেও যদি গণমাধ্যমকর্মীদের হত্যার বিচার না হয়, তবে তা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সার্বিক বিচারব্যবস্থার দেউলিয়াত্বকেই ফুটিয়ে তোলে। শহীদ সাংবাদিকদের অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক