সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন
সারা দেশে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় যথাযোগ্য মর্যাদায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আজ রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানী ঢাকাসহ সরা দেশেই আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়।
সারা দেশ থেকে এনটিভি ও এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :
আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি
নিজেদের কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্যের নানা প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন করেছে পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ। জেলা শহরের চেঙ্গী স্কয়ার চত্বরের খোলা মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করে আদিবাসী সাংস্কৃতিক মঞ্চের শিল্পীরা। এ সময় তারা গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি এবং অধিকারের দাবি ফুটিয়ে তোলেন।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে চেঙ্গী স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে মারমা উন্নয়ন সংসদে গিয়ে শেষ হয়।
পরে মারমা উন্নয়ন সংসদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী প্রীতিময় চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদুল সুমন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, লেখক ও গবেষক অনিম নওশাদ, বাজস সভাপতি মাহফুজুর রহমান শামীম, পানছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা।
এ সময় বক্তারা পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। তারা অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ভূমি অধিকার নিশ্চিত, পাহাড়ি নারী ও শিশুর অধিকার বাস্তবায়নসহ পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দেন।
আলাউদ্দীন শাহরিয়ার, বান্দরবান
নানা আয়োজনে বান্দরবানে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। আজ সকালে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে স্থানীয় রাজারমাঠে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেকি ও সমর্থকরা জড়ো হন। পরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইং চপ্রু মাস্টার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় রাজারমাঠে আয়োজিত সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি ডা. মং উষাথোয়াইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য মতন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা।
এ সময় অন্যদের মধ্যে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কৃপা ত্রিপুরা, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী রিপন চক্রবর্তী, পাহাড়ি নেতা জুমলিয়ান আমলাইসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের নেকিনি বক্তব্য দেন।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাজারমাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজারমাঠে এসে শেষ হয়। এতে বান্দরবানে বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, খুমীসহ ১১টি জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষেরা বর্ণিল সাজে অংশ নেয়।
আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা বলেন, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন, পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভজন দাস, নেত্রকোনা
নেত্রকোনার আদিবাসী অধ্যুষিত দুর্গাপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।
বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র’ (ডিএসকে)-এর সহায়তায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত আদিবাসী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র বের হয়। এটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কমরেড মনি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর জাদুঘর মিলনায়তনে ‘আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসী ইউনিয়ন দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি অবণী কান্ত হাজংয়ের সভাপতিত্বে এবং আদিবাসী নেত্রী চিনু রেমার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড ড. দিবালোক সিংহ।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা কমিটির সম্পাদক মোরশেদ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠনের সভাপতি অন্তর হাজং, আদিবাসী নেত্রী পার্বতী রিছিল, লিটন হাজং, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক শামছুল আলম খান প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল ধরে বিভিন্ন জাতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের কারণেই এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো—দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখন পর্যন্ত তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি।
বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমির অধিকার রক্ষা করা না গেলে তারা ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির মুখে পড়বে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা ও মূলধারার সাথে তাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, ভাষা ও কৃষ্টি তুলে ধরে মনোজ্ঞ নাচ ও গান পরিবেশন করে।
মানিক চৌধুরী ময়মনসিংহ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া)
‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’ এই প্রতিপাদ্যে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট এই দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে হালুয়াঘাট পৌরশহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এটি পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।
এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আদিবাসীরা তাদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে নানা স্লোগান দেয়। শোভাযাত্রা শেষে আদিবাসী নেতারা তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে উপজেলার ৫০০ আসনবিশিষ্ট অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসী, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও সংকট উত্তরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটি কেবল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের নয়, বরং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
আলোচনা সভায় উঠে আসা প্রধান দাবিগুলো হলো, ভূমি অধিকার ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকার রক্ষা এবং সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি প্রদান, নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণ এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতি সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, আধুনিক ও ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং নারীর অধিকার বাস্তবায়ন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
এস এম জিন্নাহ, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায়ও পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। দিনটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও অধিকার সংক্রান্ত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। এটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ কাওসার আজিজ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা ধারণ করে আসছে। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মিঠু হাসান, নওগাঁ (বদলগাছী-মহাদেবপুর)
নওগাঁর বদলগাছীতেও আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ অংশ নেয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী সামাজিক সংগঠনের নেতা আকাশ পাহান।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় তাদের জন্য আলাদা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে খুব শিগগিরই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু।
সভায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লুতফর রহমান মিঠু, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়েও আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেসক্লাব হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সরকারিভাবে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে আদিবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব। একই সঙ্গে পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট ও অধিকারহীনতার টেকসই সমাধান পাওয়া যেতে পারে
ফরহাদ হিমু, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) আদিবাসী ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আদিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আজ বিকেল ৫টায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রেমি চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন।
বিশেষ আলোচক ছিলেন একই বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি সুইচিংনু মার্মা।
এ সময় অনুষ্ঠানে আদিবাসী ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘শুধু দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অধিকার আদায়ে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা, প্রদর্শনী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। তরুণদের নিজেদের সংস্কৃতি অন্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তাদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মংক্যএ মার্মা বলেন, ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আশা করি, আজকের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।’
সংগঠনের সভাপতি উচিং মারমা বলেন, ‘আমরা সামনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ারবিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজন করতে চাই। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রকাশনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বছর আজকের দিনে আরও বড় পরিসরে মুক্তমঞ্চে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে একটি ট্যুর আয়োজন এবং জুনিয়রদের উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাবিষয়ক একটি সেমিনার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
আলোচনা পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের দলীয় নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক