শেখ হাসিনাকে কবিতা উৎসর্গ করা মনিরুল ইসলাম এখনও প্রভাবশালী
সমবায় অধিদফতর এখনও শেখ হাসিনা সরকারের আমলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে। তারা রাতারাতি নিজেদের খোলস পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দলের লোক হয়ে গেছেন। মূলত তারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন সমবায় অধিদফতরের অধিকাংশ কর্মকাণ্ড। যাদের মধ্যে মুজিব শতবর্ষে কবিতা লিখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করা কর্মকর্তাও আছেন। এ ধরনের কর্মকর্তাদের প্রভাবে কোনঠাসা ক্ষমতাসীন দলের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা পড়া একটি অনুসন্ধানী অভিযোগে উঠে এসেছে এমন তথ্য। অভিযোগে বলা হয়েছে— সমবায় অধিদফতরের মার্কেটিং ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক (সাবেক যুগ্ম নিবন্ধক) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক অপব্যবহার এবং গুপ্ত রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তিনি সমবায় খাতকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করে আসছেন।
মনিরুল ইসলাম বিসিএস ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মে জড়িত ও নানা অনিয়মের সাক্ষী।
তিনি মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে তার নিজের লেখা একটি কবিতা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করেন। ঘটনাটি সোশাল মিডিয়াতেও তিনি পোস্ট করেন, যা রীতিমত ভাইরাল হয়েছিল। সেই সুবাদে মনিরুল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, কী যে বলেন, প্রভাব বিস্তার কীভাবে করব? আমি তো কখনও প্রশাসনিক কোনো শাখায় যুক্তই ছিলাম না।
গুপ্ত রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িত থাকার বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, গুপ্ত রাজনীতিতে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে দুই গ্রুপ, কেউই চায় না আমার পদোন্নতি হোক। নিজেদের পদোন্নতির জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটাচ্ছে। আমার ব্যাপারে যেসব অভিযোগ তা মিথ্যা।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে কবিতা লেখার বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি কখনও কবি ছিলাম না, কখনও কবিতাও লিখি নাই। এখন এআইয়ের যুগ, যে কেউ চাইলেই যে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা রটাতে পারে।
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সমবায় অধিদফতরের দায়িত্বশীল অন্য কোনো কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক