দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের যুবক নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের মো. জামাল হোসেন (জামাল মিয়া)। এ ঘটনায় তার দোকানের এক কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহত কর্মচারী স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত জামাল মিয়ার বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী।
নিহত জামাল মিয়ার পরিবার জানায়, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেই দোকানটি পরিচালনার পাশাপাশি একজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় দিনগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালিয়ে গুলি করলে জামাল হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় দোকানে থাকা কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
জামাল হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত জামালের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং তিন সন্তান রয়েছেন। তার তিন সন্তানের মধ্যে ছেলে বায়েজিদের বয়স আট বছর, মেয়ে সিনথিয়ার তিন বছর এবং সামিরা আক্তারের বয়স দুই বছর। এ ছাড়া তার তিন ভাই ও এক বোনসহ বহু স্বজন রয়েছে।
নিহত জামালের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী জানান, তার ছেলে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য বিদেশে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ব্যবসা করছিলেন। এখন সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
জামলের বাবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাফনসহ প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচলিত আইনে ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নিহত জামালের স্বজনদের আহাজারিতে সিপাই কান্দি গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছোট্ট তিন সন্তান বাবাকে হারিয়ে নির্বাক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর