জামায়াত ব্রিটিশ আমল থেকেই মুনাফেকির রাজনীতি করছে : রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, নির্বাচনের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি জামায়াত দিয়েছিল, নির্বাচনের পর তারা তা ভঙ্গ করেছে। জামায়াতের এমপিরা এখন সরকারি সুযোগ-সুবিধার জন্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত যে মুনাফিক রাজনীতি করে- সকালে একটা, বিকেলে একটা, সংসদের বাইরে একটা, সংসদের ভেতরে একটা- এই ধরনের দ্বিচারিতার রাজনীতি জামায়াতে ইসলামী ব্রিটিশ আমল থেকেই করে আসছে।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। একই দিন বিকেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবেও রাশেদ খাঁন জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।
জামায়াতের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় অভিযোগ করে। দেখেন, অভিযোগ কারা করে? যারা নিজেদের দুর্বল মনে করে, তারাই সবসময় অভিযোগ করে। জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল, কিন্তু তারা আসলে বিরোধী দল হিসেবে থাকতে চায় না। তাদের কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়, তারা সরকারি দলের কাছ থেকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা করে।
রাশেদ খাঁন বলেন, তারা প্রত্যাশা করুক বা না করুক, সরকার সব এমপির জন্য- হোক সে সরকারি দলের কিংবা বিরোধী দলের সমান বরাদ্দ নির্ধারণ করে রেখেছে। কিন্তু জামায়াতের অভিযোগের শেষ নেই। জামায়াতের জন্য আপনি যদি কলিজা কেটেও ভুনা করে দেন, তাও তাদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন না।
জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, আমি জামায়াতের আমিরের এই অভিযোগ নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে পারছি না। তবে আজ দেখলাম, তিনি বলেছেন, বেতনের জন্য জামায়াত সংসদে যায়নি, জামায়াত সংসদে গেছে জনগণের সেবা করতে। আমার প্রশ্ন হলো, জামায়াতের যেসব এমপি রয়েছেন, তারা কি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন না? তারা কি বেতন নিচ্ছেন না?
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট দলে পরিণত হবে। জামায়াতে ইসলামী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং দলটি আওয়ামী লীগের মতোই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল হওয়ার চেষ্টা করছে।
জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রাশেদ আরও বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, গণঅভ্যুত্থানের পরে জামায়াত মজলুম থেকে পুরোপুরি জালিমে পরিণত হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতির একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ছাত্রদলকে কুকুরের মতো পিটিয়ে রাজশাহী থেকে বিদায় করার কথা বলেছেন। ছাত্রদল যদি পাল্টা মিছিল করে, তাহলে দেখবেন তারা খুব শান্তির বাণী আওড়াতে থাকবে।
জামায়াতকে কাগজের বাঘ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, এই মুহূর্তে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট নিরাপত্তা দিচ্ছে। কিন্তু তারা এমন অবস্থায় নিজেদের বিরোধী দল থেকে সরকারি দল ভাবতে শুরু করেছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, অতীতে কখনও দেখেছেন যে বিরোধী দলের নেতা বা বিরোধী ছাত্রসংগঠনের নেতা এভাবে সরকারি দল ও সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের হুমকি দিয়েছেন?
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আমি বারবার বলছি, জামায়াত বিরোধী দলে থেকেও যেভাবে মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া দল হবে।
জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ আরও বলেন, জামায়াত ও শিবিরের রাজনৈতিক অত্যাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যে পাঁয়তারা চলছে, তা থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো আরেকটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল হওয়ার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু এই বাংলাদেশে আর কেউ কখনোই আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না। তিনিজামায়াত যদি মনে করে, আমরা বিরোধী দলে রয়েছি, এখন অত্যাচার করব, নিপীড়ন করব, আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করব, দেশকে অস্থিতিশীল করব এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেব- তাহলে জামায়াতের সেই ফ্যাসিবাদী আচরণকে এ দেশের জনগণ রাজপথে নেমে প্রতিহত করবে।
বুধবার ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ