কারাবন্দি ইউপি সদস্যের ‘ভুয়া’ সইয়ে গাছ বিক্রির অভিযোগ
রংপুরের মিঠাপুকুরে সরকারি পাঁচটি ইউক্যালিপ্টাস গাছ বিক্রিতে অনিয়ম ও জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে ১২ নম্বর মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
কোনো সরকারি অনুমোদন ও বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মূল্যবান ইউক্যালিপ্টাস গাছ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিয়ার রহমান কাঠ ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মোক্তার হোসেনের কাছে গাছগুলো বিক্রি করেন।
গাছ বিক্রির বৈধতা দেখাতে তৈরি করা একটি রেজুলেশনে সাতজন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে ওই স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রেজুলেশনে স্বাক্ষর থাকা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম প্রায় সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য আলপনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অভিযোগ, অনুপস্থিতিতে রেজুলেশন তৈরি করে গাছ বিক্রির পর তাতে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া এবং রেজুলেশনে থাকা স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. আতিয়ার রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি গাছ বিক্রির ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
এখন তদন্তে রেজুলেশনের স্বাক্ষরের সত্যতা, গাছ বিক্রির অনুমোদন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

মো. রতন মিয়া, রংপুর (পীরগঞ্জ-মিঠাপুকুর)