কীটনাশক ব্যবসার আড়ালে ভেজাল সার কারখানা, ১১২৭ বস্তা উপকরণ জব্দ
রংপুরের পীরগঞ্জে কীটনাশক ব্যবসার অন্তরালে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ ও ভেজাল সার তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। যৌথ অভিযানে কারখানাটি থেকে ভেজাল সার তৈরির বিভিন্ন উপকরণভর্তি এক হাজার ১২৭ বস্তা জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের টের পেয়ে মালিকপক্ষ পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কালশারডারা এলাকায় মেসার্স মোখলেছুর রহমান ট্রেডার্সে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আল বাকিউল বারীর নেতৃত্বে এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) রাসেল রানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ ও পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স মোখলেছুর রহমান ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ব্যবসার আড়ালে টিএসপি, ডিএপি, পটাশ ও জিপসামের মতো কৃষকদের অতিপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার নকল করে নামিদামি কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর বুঝতে পেরে মূল হোতা মোখলেছুর রহমান ও তার ছেলে মাইদুল ইসলাম বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে গোডাউনের তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল সার তৈরির উপকরণ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খালি বস্তাভর্তি একহাজার ১২৭ বস্তা জব্দ করা হয়।
কারখানা থেকে উদ্ধারকৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে ইটের গুঁড়া, মাটি, ডলোমাইট চুন, ডিমের খোসা, পাথুরি চুন এবং ম্যাগনেসিয়াম-সদৃশ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান। এসব উপাদান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রাথমিক আলামতে নিশ্চিত হওয়া গেছে এগুলো দিয়ে ভেজাল সার তৈরি হতো। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হকের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা জানান, এর আগে শুক্রবার রাতে কালশারডারা বাজারের নিকটবর্তী গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই শনিবার এই মূল কারখানায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মো. রতন মিয়া, রংপুর (পীরগঞ্জ-মিঠাপুকুর)