স্টার হতে চেয়েছি, সুপারস্টার নয় : অভিষেক
কখনো অমিতাভ বচ্চনের ছেলে হিসেবে, কখনো ফ্যামিলিম্যান হিসেবে, কখনো আবার অভিনেতা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে চর্চিত হয়েছেন তিনি। এসবের মধ্যেই বলিউডে পার করে ফেলেছেন ১৫টি বছর। রাফ অ্যান্ড টাফ হিরো কিংবা রোমান্টিক হিরোর চরিত্র থেকে বেরিয়ে এসে কয়েক বছর ধরে তিনি ছবির সহ-অভিনেতার চরিত্রগুলোই বেছে নিয়েছেন। কেউ মনে করেন, তিনি অভিনয় জানেন না বলেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবার কেউ মনে করেন, বিজনেসম্যান হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আসলে তিনি কী চান, সেটা জানে না কেউই।
গতকাল বুধবার ‘অল ইজ ওয়েল’ ছবির প্রচারে অংশ নিতে কলকাতার বেলেঘাটার থাপায়ার ব্যাঙ্কোয়েট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে কথার ঝাঁপি খুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। বললেন, ‘আমি স্টার হতে চেয়েছি, সুপারস্টার নয়।’

জুনিয়র বচ্চন বলেন, ‘অভিনয় আমার রক্তে রয়েছে। তাই অভিনয়ের প্রতি আমার একটা ভালোবাসা আছে। শখও বলা যেতে পারে। আমার বাবা (অমিতাভ বচ্চন) আমার কাছে সেরা অভিনেতা। তিনি আজ পর্যন্ত প্রায় কয়েকশ ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন। কিন্তু আজো তিনি নিজেকে একজন সুপারস্টার মনে করেন না। তিনি একটাই কথা আমাকে ছোটবেলা থেকে শিখিয়ে এসেছেন, যেকোনো কাজ মন দিয়ে করলে উন্নতি ও সাফল্য এসে ধরা দেবেই। তবে মনে রাখতে হবে, সেটা কিন্তু ক্ষণিকের। একটা ভুল সেই সাফল্যকে বিফলতায় পরিবর্তিত করতে পারে।’
‘তাই একটা ছবি যদি হিউজ ব্লকবাস্টার হিট হয়ে যায়, তখন সবাই আমাকে সুপারস্টার বলবেন, আবার পরের ছবিটা ফ্লপ হলেই কিন্তু কেউ আর সুপারস্টার বলবে না। তাই আসলে আমি কোনোদিনই সুপারস্টার হতে চাইনি। বিনোদন জগতের একজন স্টার হয়ে ওঠাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট,’ যোগ করে অভিষেক বচ্চন।
একটা সময় ছিল, ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির নায়িকাদের সঙ্গে অভিষেক বচ্চনের প্রচুর ছবি বের হতো; কিন্তু এখন সেভাবে দেখা যায় না কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক হেসে হেসে জবাব দিলেন, ‘অভিনেত্রীদের হয়তো বিবাহিত পুরুষ পছন্দ নয়। আসলে আমি এখন যে ধরনের ছবিতে অভিনয় করছি, সেখানে সেই অর্থে নায়ক-নায়িকা বিষয়টিকে আলাদা করে দেখানো হচ্ছে না।’
ছবির ধরন বোঝাতে অভিষেক বললেন, “এই তো ‘অল ইজ ওয়েল’ ছবিতে আমাকে একজন ফ্যামিলিম্যান হিসেবে পরিচালক তুলে ধরতে চেয়েছেন। সেখানে একজন পুরুষ তাঁর স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ববান হন, সেটা বোঝাতেই নায়িকা চরিত্র রাখা হয়েছে। তাহলে পুরো বিষয়টি এবার বুঝতে পারছেন তো? তবে হ্যাঁ, এখানে একটা কথা বলা দরকার, এই ‘অল ইজ ওয়েল’ ছবিতে আমি আমার বাবার পর যে অভিনেতার অভিনয় সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করি, তিনি রয়েছেন। আর তিনি হলেন চিন্টু আঙ্কেল (ঋষি কাপুর)। তাঁর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অভিনয় দেখেই বড় হয়েছি। তাঁর মতো এনার্জেটিক অভিনেতা আমি খুবই কম দেখেছি।’
চলচ্চিত্র জগতে দর্শকের রুচি বদলাচ্ছে কি না, সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘আমি একেবারেই এটা বিশ্বাস করি না যে দর্শকের ছবি দেখার ধরন পাল্টেছে। আমার মনে হয়, পরিচালক যে ধরনের স্টোরি যেভাবে দেখাতে চাইবেন, সেটাই দর্শক দেখবেন। কাহিনীর গোপন বিষয়টি লুকিয়ে থাকে পরিচালকের পরিবেশনের স্টাইলের মধ্যে।’

আজকাল ছবির লিড চরিত্রে সকলেই অভিনয় করতে চান। এ বিষয় নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘একটা ছবির প্রতিটি চরিত্রই লিড চরিত্র। একটাকে ছাড়া আরেকটা সম্ভব নয়। মনে রাখা দরকার, ছবি তৈরির পেছনে যেসব টেকনিশিয়ান থাকেন, তাঁরাও কিন্তু একেকটি লিড চরিত্র। তাঁদের ছাড়াও ছবি তৈরি অসম্ভব। তাই আলাদাভাবে লিড চরিত্রে অভিনয়ের কথা ভেবে সত্যিই কোনো লাভ আছে কি? মনে রাখতে হবে, লাইমলাইটে আসতে গেলে জুনিয়র অভিনেতার স্টেজটা পার করেই আসতে হবে। লিড চরিত্রে অভিনয় করেই সব অভিনেতা কিন্তু সফলতা পান না। অনেক ছবিতেই সহ-অভিনেতারাও দর্শকের মন কেড়েছেন।’

কলকাতা সংবাদদাতা