বিপিএলে কেন শিনা চৌহান নেই, জানালেন তানভীর খান
চলছে স্থানীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের তৃতীয় আসর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এই খেলা সরাসরি সম্প্রচার করছে চ্যানেল নাইন। বিপিএলের আগের দুই খেলার আসরও কাভার করেছে চ্যানেল নাইন। বিপিএল খেলার নানা দিক নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপ করেছেন চ্যানেল নাইনের অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট প্রধান তানভীর খান।
প্রশ্ন : টিভি প্রযোজনার ক্ষেত্রে বিপিএলে এবার কী পরিবর্তন এনেছেন আপনারা?
উত্তর : অনেক কিছুই। বিপিএলের প্রোডাকশনের ব্যাপারটা মূলত চ্যানেল নাইন দেখে। তাই সবকিছু আমাদের চিন্তা-ভাবনা করে করতে হয়। গত বিপিএলের আসরে উপস্থাপনা করেছিলেন শিনা চৌহান। এবার তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শিনার জায়গায় এবার আমরা পামেলাকে নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া পূর্বের কোনো ভুল যাতে না হয় সেটার দিকেও নজর রাখছি আমরা।
প্রশ্ন : শিনা চৌহান বাদ পড়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর : শিনা চৌহানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল পাঁচ বছরের। কিন্তু শিনা শুরুতেই আমাদের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। আমাদের শিনার সঙ্গে কথা হয়েছিল যে, তিনি বিপিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকা অবস্থায় যাই করুন না কেন, আমাদের জানিয়ে করবেন। কিন্তু সেটা তিনি করেননি। এটা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বলা ঠিক হচ্ছে কি না জানি না। বিপিএলের উপস্থাপকদের পেছনে আমরা অনেক অর্থ বিনিয়োগ করি, তাই আমাদেরও চাওয়া থাকে তারা যেন আমাদের না জানিয়ে কিছু না করেন। আর আমি বলব, বিপিএল এমন এক জায়গা যার মাধ্যমে অনেক দূর পৌঁছানো সম্ভব।
প্রশ্ন : বিপিএলের এবারের উপস্থাপক কীভাবে নির্বাচন করেছেন?
উত্তর : আমরা শুরুতে অনেককেই ভেবেছিলাম। এরপর তাদের স্ক্রিন শট নিয়েছি এবং আরো যাচাই বাছাই করেছি। যেমন কে ভালো ইংরেজি ও বাংলা বলতে পারবে! আর ক্রিকেটের প্রতি কার কতখানি ইন্টারেস্ট রয়েছে এবং তাদের স্পোর্টস ইভেন্ট নিয়ে ভাবনা কী রকম! খেলা সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে কি না! এসব আর কি! সবকিছু ভেবেই আমাদের পামেলা ভুতোরিয়াকে পারফেক্ট মনে হয়েছে। আর বাংলাদেশের আমব্রিনকে উপযুক্ত মনে হয়েছে।
প্রশ্ন : এবার বিপিএল জমেছে তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা আছে কি?
উত্তর : অপ্রীতিকর ঘটনা অনেক আছে। প্রথমে যদি বলি এবারের খেলাগুলো খুব লো-স্কোরের হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে খেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য সামলানো খুব কঠিন। এখানে আমরাই শুধু ব্রডকাস্টার নই আরো আটটি ব্রডকাস্টার রয়েছে। পৃথিবীব্যাপী খেলা দেখানো হচ্ছে। তাই মাঝে মাঝে সময়ের আগে খেলা শেষ হলে আমরা ঝামেলায় পড়ে যাই। আর প্রথমদিকে বিপিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের মতের কিছু অমিল হয়েছিল। এখন সবকিছু ঠিকঠাক। খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই কাজ করছি আমরা। আর একটা জিনিস বলি, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মাঠে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই গেল কিন্তু আমরা সেটা দেখাতে পারব না যতক্ষণ না পর্যন্ত অফিশিয়ালি নির্দেশনা আসে। তবে দর্শক এখন অনেক সচেতন। তারা প্রীতিকর ও অপ্রীতিকর সব ঘটনাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করে নেন।
প্রশ্ন : ভালো ঘটনাও নিশ্চয়ই আছে?
উত্তর : তা তো বটেই। বিসিবির কর্মকর্তাসহ অনেকে বলেছেন, এটা বাংলাদেশের এক নম্বর ইভেন্ট। আর বিপিএল যখন শুরু হয়, তখন সারা দেশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক রাত পর্যন্ত খেলা দেখে দর্শক পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছেন। কিন্তু তাদের কোনো ক্লান্তি থাকে না। আবার অনেকে বাসে অথবা ট্রাকে করেই বাসায় ফেরেন। বিপিএলের মতো ইভেন্টই মানুষকে সত্যি আনন্দ দিতে পারে। এখন স্পোর্টসকেও বিনোদনের একটা পার্ট মনে করি আমি। বিপিএল পরিপূর্ণ বিনোদন দিতে সক্ষম। কারণ বিপিএলের খেলা দ্রুত শেষ হয়। এ ছাড়া কালারফুল জার্সি থাকে। উৎসব, উৎসব একটা ব্যাপারও থাকে। তাই ছোট-বড়-বৃদ্ধদের সবারই পছন্দ বিপিএল।
প্রশ্ন : দলগুলোর প্রতি পক্ষপাতিত্ব আছে কি?
উত্তর : একদমই না। কিন্তু অনেক সময় মানসিক দ্বিধায় থাকি, যখন নিজের পছন্দের টিম হেরে যেতে শুরু করে। বিষয়টা এ রকম- আমারও তো পছন্দের দল ও খেলোয়াড় আছে। তাই না! তবুও আমরা নির্দিষ্ট কোনো দলের পক্ষ নিই না।
প্রশ্ন : বাণিজ্যিকভাবে আপনারা কতখানি সফল হয়েছেন?
উত্তর : উত্তরটা এভাবে বলি, যদি খেলায় এক ওভার কম হয়, তাহলে হয়তো আমাদের একটা বিজ্ঞাপন মিস হয়ে যায়। আর চট্টগ্রামে খেলার সময় একদিন তো বৃষ্টি হয়েছিল। তবে সবকিছু মিলিয়ে বলব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।

নাইস নূর