মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা মঙ্গলবার, শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা
দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার জানাজা আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
আজ সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তার ছেলে সাদাত মনোয়ার।
তিনি জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ সর্বপ্রথমে নেওয়া হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিটিভি থেকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মরদেহ নিয়ে আসা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এখানেই রাখা হবে। তবে, আজ বাড়িতেই রাখা হবে মরদেহ। বনানী কবরস্থানে দাফন করতে চায় পরিবার।
শহীদ মিনার থেকে মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হবে। জানাজা শেষে মরদেহ আধা ঘণ্টার জন্য নেওয়া হবে তার প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। দীর্ঘদিন সেখানে শিক্ষকতা করায় তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা যেন শেষ বিদায় জানাতে পারেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চারুকলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল বিকেলের মধ্যে বনানী কবরস্থানে তাকে চিরশায়িত করা হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার (২৯ জুন) সকাল দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। এ প্রসঙ্গে চিত্রশিল্পীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘গত ১৪ জুন ওঁনাকে (মুস্তাফা মনোয়ার) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওঁনার প্রেসার ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল। তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন। গত চারদিন ধরে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।’
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও সম্প্রতি নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
মুস্তাফা মনোয়ার দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অনন্য নাম। আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের জন্য অসংখ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশে পাপেট শোয়ের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে।
সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা প্রয়াত কবি গোলাম মোস্তফা এবং মায়ের নাম জমিলা খাতুন।

বিনোদন ডেস্ক