ঘি কেন চুলে ব্যবহার করবেন
চুলের যত্নে ঘি একটি কার্যকর উপাদান, যা শুধুমাত্র মুখরোচক খাবারেই নয়, চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট 'বোল্ডস্কাই'-এর পরামর্শ অনুযায়ী, চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন উপায়ে ঘি ব্যবহার করলে চুলের কী কী উপকার হয়:
এটি একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, চুল পড়া রোধ করে, এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সরাসরি চুলে ঘি ব্যবহার করলে তা পরিষ্কার করা কঠিন হয়।
তাই ব্যবহারের সময় এর সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান (যেমন তেল, লেবুর রস ইত্যাদি) মিশিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে সহজে চুল পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।
চুল পড়া রোধে ঘি দারুণ উপকারী। প্রথমে চার থেকে পাঁচ চামচ ঘি হালকা গরম করে এর সঙ্গে পাঁচ গ্রাম কাজুবাদামের গুঁড়ো এবং তিন টেবিল চামচ কাজুবাদামের তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল পড়া রোধ হয়। এছাড়া, এটি একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে। দুই টেবিল চামচ ঘি ও এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে চুল নরম ও ঝলমলে হয়।
ঘি চুলের আগা ফাটার সমস্যা দূর করতেও সক্ষম। তিন টেবিল চামচ ঘি চুলের আগায় ভালো করে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর চুল আঁচড়ে নিতে হবে। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে নিয়মিত ব্যবহারে আগা ফাটা কমে যায়। চুলকে আরও ঝলমলে করতে চাইলে সরাসরি চুলে ঘি লাগিয়ে ২০ মিনিট পর লেবুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা যেতে পারে। লেবুর রস চুলের চকচকে ভাব বাড়াতে সাহায্য করে।
নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রেও ঘি অত্যন্ত কার্যকরী। মাসে অন্তত দু'বার চুলে ঘি লাগানোর পর আমলকীর রস অথবা পেঁয়াজের রস দিয়ে চুল ধুয়ে ফেললে ধীরে ধীরে নতুন চুল গজাতে সাহায্য পাওয়া যায়। এছাড়া, খুশকি দূর করতে কাজুবাদামের তেলের সঙ্গে ঘি মিশিয়ে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট পর গোলাপজল দিয়ে ধুয়ে ফেললে খুশকি কমে। মাথার তালুতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত সংক্রমণ দূর করতে সপ্তাহে অন্তত দু'দিন মাথার তালুতে ঘি ব্যবহার করলে সংক্রমণে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। সামগ্রিকভাবে, চুলের যত্নের জন্য ঘি একটি প্রাকৃতিক ও অত্যন্ত কার্যকর উপাদান।

ফিচার ডেস্ক