অল্প বয়সেই টাক পড়ছে? কারণ ও সমাধান জেনে নিন
বয়স ২০ বছর হতে না হতেই অনেক তরুণের ক্রমেই মাথার সামনের অংশ ফাঁকা হচ্ছে। এই চুল পড়ার সমস্যায় বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। একসময় মনে করা হতো টাক পড়া কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় ২০-২৫ বছর বয়সেই পুরুষদের মধ্যে মাথার চুল পড়ার সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে।
অল্প বয়সে চুল পাতলা হওয়া রোধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে কী করতে হবে, এ ব্যাপারে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দায়ী:
১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: পুরুষের শরীরে যখন টেস্টোস্টেরন হরমোন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’-এ রূপান্তর হয়, তখন তা চুলের ফলিকলগুলোকে ছোট করে ফেলে। এ কারণে চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়া শুরু করে।
২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা: পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের জন্য দৌড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক জটিলতা সৃষ্টি করে। এ কারণে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ চুল পড়া শুরু হয়।
৩. পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের অভাবের পাশাপাশি শহরের ধুলাবালি ও শক্ত পানি চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়।
অল্প বয়সে টাক পড়া রোধে করণীয়
১. সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন
ঘন ঘন চুল ধোয়ার জন্য সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। চুল ধোয়ার পর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল কিছুটা গরম করে মাথায় মাসাজ করে নিতে পারেন। যা স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
২. ডায়েটে আনুন পরিবর্তন
চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিনে তৈরি হয়। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম, মাছ, সোয়াবিন, পালং শাক ও বাদাম রাখুন। কারণ, বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
৩. ডার্মারোলার ব্যবহার
ত্বক বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটি মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা নতুন চুল গজাতে সহায়ক।
৪. ডিএইচটি ব্লকার খাবার
কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি ও আমলকী প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবার হিসেবে কাজ করে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
৫. ধূমপান পরিহার ও পর্যাপ্ত ঘুম
ধূমপানের কারণে চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায়। তাই চুল পড়া রোধে ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের মধ্যেই শরীরের কোষগুলো মেরামত হয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যখন দেখবেন মাথা ক্রমশ টাক হতে থাকবে অথবা চুলে টান দিলেই গোছা গোছা চুল উঠে আসছে, তখন দেরি না করে একজন ট্রাইকোলজিস্ট বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে মিনোক্সিডিল বা পিআরপি থেরাপির মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে।

ফিচার ডেস্ক