সেফটি পিনের পিছনে যে ছিদ্র থাকে, তার কাজ কী?
দৈনন্দিন জীবনের অগণিত ছোটখাটো বিপদে যে জিনিসটি খুবই প্রয়োজন, তার নাম সেফটি পিন। শাড়ির আঁচল সামলানো থেকে শুরু করে সালোয়ার-কামিজের ওড়না, ছেঁড়া বোতাম, খুলে যাওয়া ব্যাগের চেন কিংবা জুতোর আলগা স্ট্র্যাপ— সব সমস্যারই যেন একমাত্র ভরসা এই ক্ষুদ্র ধাতব বস্তুটি। তাই মা-বোনদের আঁচলে, শাড়ির খুঁটে কিংবা ব্লাউজের কোণে ঝুলতে দেখা যায় সেফটি পিন। কারণ, বিপদে পড়লে যাতে হাতের কাছেই তাকে পাওয়া যায়। খেয়াল করে দেখবেন, এই সেফটি পিনের একেবারে শেষপ্রান্তে ছোট লুপের মতো একটি ছিদ্র থাকে। কেন থাকে? কী তার কাজ, জানেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটু ইতিহাস ঘাঁটতে হবে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নিজের ঘরে বসে একটি মাত্র তার দিয়ে আজকের সেফটি পিনের মতো একটি যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন ওয়াল্টার হান্ট। তার দেখানো কৌশল মেনে আজও সেফটি পিন তৈরি হয়। ওয়াল্টার একটি ধাতব তারকে বেঁকিয়ে, কুণ্ডলীকৃত করে পিনের আকার দিয়েছিলেন। এই কৌশলে বস্তুটির উপরের দিকে একটি ছোট্ট ক্লিপ তৈরি হয়। কিন্তু ক্লিপের মাথায় তারটিকে না কেটে গোল করে পাকিয়ে দেওয়া হয়। এই ভাঁজ থেকেই তৈরি হয় সেই ছোট্ট ছিদ্রটি। আসলে তারটিকে কেটে দিলে, মুখটা ধারালো হয়ে থেকে যেত। তাতে অসাবধানে হাতে খোঁচা লেগে যেতে পারত। পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল।
তবে ব্যবহারিক দিক দিয়েও সেফটি পিনের পিছনে থাকা ছিদ্রটির ভূমিকা রয়েছে। সেফটি পিন দিয়ে কিছু আটকানোর সময় সেই চাপ আসলে ক্লিপের উপরে গিয়েই পড়ে। গোল ছিদ্রটিই সেই চাপকে ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। তার ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও পিনটি বেঁকে যায় না। ওয়াল্টার ঠিক এই ভাবেই সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও এই যন্ত্রটির নকশা পরিবর্তন করার কখনও প্রয়োজন পড়েনি।
উদ্ভাবনী বিশেষজ্ঞদের মত, এই ধরনের অপরিহার্য জিনিসের ক্ষেত্রে, খুব প্রয়োজন না পড়লে নকশা পরিবর্তন করা উচিত নয়। আর সেফটি পিনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে, এখন এটির নকশা পরবির্তন করলে তার ব্যবহার কমে যেতে যেতে পারে। তাই এই নকশায় রেখে দেওয়া হয়েছে গত দেড় শতাব্দী ধরে।

ফিচার ডেস্ক