রমজানে মিশরীয়দের ইফতার আইটেম
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা সিয়াম সাধনায় মগ্ন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতারের মাধ্যমে রোজা ভাঙা যেন এক আনন্দঘন মুহূর্ত। দেশভেদে ইফতারের খাবারে বৈচিত্র্য থাকলেও খেজুর, পানি, দুধ ও ফল—এসব প্রায় সর্বত্রই সমান জনপ্রিয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্থানীয় স্বাদ ও সংস্কৃতির বিশেষ কিছু পদ।
বাংলাদেশে যেমন খেজুর, শরবত, ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ ছাড়া ইফতার অসম্পূর্ণ মনে হয়, তেমনি মিষ্টিমুখে জিলাপি বা হালিমের বাটি অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে। একইভাবে অন্যান্য মুসলিম দেশেও রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত ইফতার আয়োজন। আজ থাকেছে প্রাচীণ সভ্যতার দেশ মিশরের মুসলিমদের ইফতার আয়োজনের কথা।
মিশরে ইফতারের তালিকায় যা থাকে
মিশরের ইফতার আয়োজনেও এক নম্বরে থাকে খেজুর। একইসঙ্গে দুধ ও নানা রকম ফল-ফলাদি। এ ছাড়াও মিসরে ইফতারের খাদ্য তালিকায় থাকে বাদামি রুটি ও মটরশুঁটির মাধ্যমে তৈরি মেডেম। মটরশুঁটি স্বাস্থ্যকর ও পেটের জন্য ভালো। বেশির ভাগ পরিবারে তেল, লবণ ও মরিচ দিয়ে রান্না করা হয় মেডেম। অনেকে আবার পেঁয়াজ ও টমেটোর সংমিশ্রণেও খাবারটি প্রস্তুত করেন।
ঐতিহ্যবাহী পানীয়
এক বিশেষ ধরনের পানীয়ও তৈরি করেন মিশরীয়রা, যার নাম ‘কামার আল দিনান্দ আরাসি’। শুকনা আখরোট সারাদিন পানিতে ভিজিয়ে রেখে পানীয়টি প্রস্তুত করা হয়।
চাঁদ আকৃতির রুটি
রমজান উপলক্ষে মিশরে তৈরি হয় চাঁদের ন্যায় এক ধরনের রুটি, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘খাবোস রমজান’ নামে। এটি ইফতার ও সেহরীর সময় সমানভাবে জনপ্রিয়।
মিষ্টান্নের সমারোহ
তাছাড়া মিশরীয়রা মিষ্টিপ্রিয় বলে রোজার মাসে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিও তৈরি করেন তারা। সেগুলোর মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটি হলো- ‘কানাফাহ’, ‘কাতায়েফ’ ও ‘বাকলাওয়াহ’। ইফতারে সবশেষে কড়া চা পান করে তারা তারাবীহ নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
প্রাচীন ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ ও পারিবারিক উষ্ণতায় ভরপুর মিশরীয়দের ইফতার আয়োজন যেন রমজানের এক অনন্য সাংস্কৃতিক প্রতিচ্ছবি।

ফিচার ডেস্ক