শনিবারের দুপুরে কেন ‘ফিজোয়াদা’য় মাতে পুরো ব্রাজিল?
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। সাম্বা নাচের ছন্দ আর মাঠের নান্দনিক ফুটবলে পাঁচ-পাঁচটি বিশ্বকাপ ঘরে তোলা এই ব্রাজিলিয়াদের জীবনধারা সব সময়ই উৎসবমুখর। তবে মাঠের সেই হলুদ-সবুজ ঝড় আর গ্যালারির উন্মাদনা ছাপিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের ঘরে ঘরে প্রতি শনিবার দুপুরে আরেকটি মহোৎসব চলে।
আর সেই উৎসবের নাম ‘ফিজোয়াদা’। বিশ্বকাপ জয়ী এই জাতির সংস্কৃতির স্বাদ নিতে হলে তাদের এই ঐতিহ্যবাহী শনিবারের আড্ডায় ঢুঁ মারা চাই-ই চাই!
ব্রাজিলিয়ানদের প্রিয় উইকএন্ড ভাইব এবং তাদের জাতীয় খাবার ‘ফিজোয়াদা’র জমজমাট রেসিপি নিচে তুলে ধরা হলো
ফিজোয়াদার বিশেষ রেসিপি ফিচার
মূল উপাদান
কালো শিম : ফিজোয়াদার মূল ভিত্তি।
মাংসের বৈচিত্র্য: চোরিজো (এক ধরণের ঐতিহ্যবাহী সসেজ), শুকনা বা তাজা গরুর মাংস এবং শুকরের মাংসের বিভিন্ন অংশ।
মশলা ও সুগন্ধি : পেঁয়াজ, প্রচুর রসুন, তেজপাতা ও গোলমরিচ।
প্রস্তুত ও পরিবেশন প্রণালি
ফিজোয়াদা কোনো ঝটপট বারবিকিউ বা গ্রিল নয়। প্রথমে কালো শিম ও মাংসের টুকরোগুলোকে মশলাসহ একটি বড় মাটির পাত্রে নেওয়া হয়। এরপর কয়লা বা কাঠের ধিমে আঁচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে একসাথে ফুটিয়ে একটি ঘন ও চমৎকার স্টু তৈরি করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেদ্ধ হওয়ার কারণে মাংসের ভেতরের জুস আর শিমের স্বাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
রান্না শেষে এই গরম গরম ফিজোয়াদা শুধু মুখে খাওয়া হয় না। এটি পরিবেশন করা হয় ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত, কুচানো ও হালকা ভাজা কেল পাতা এবং ‘ফারোফা’ (কাসাভা বা শিমুল আলুর সুস্বাদু গুঁড়ো) দিয়ে।
ফিজোয়াদার প্লেটে কয়েক টুকরো তাজা কমলালেবু রাখা আবশ্যিক! এই ভারী ও রিচ খাবারটি যাতে সহজে হজম হয়, সেজন্যই ব্রাজিলিয়ানরা খাবারের সাথে কমলার টক-মিষ্টি রস মিশিয়ে নেন।
ব্রাজিলিয়ান জীবনধারায় শনিবার মানেই ফিজোয়াদা ডে। সপ্তাহের এই ছুটির দিনে মাটির পাত্রে ফিজোয়াদা চাপিয়ে দিয়ে শুরু হয় লাউড মিউজিক আর আড্ডা। ফুটবল মাঠে ব্রাজিলিয়ানরা যেমন পাসিং ফুটবলের শৈল্পিক মেলবন্ধন দেখায়, ঠিক তেমনি ডাইনিং টেবিলে ফিজোয়াদাকে কেন্দ্র করে পরিবার আর বন্ধুদের মেলবন্ধন ঘটে। খাওয়া-দাওয়া শেষে এক গ্লাস ঐতিহ্যবাহী ‘কাইপিরিনহা’ ড্রিংকসে চুমুক দিয়ে অলস ও দীর্ঘ আড্ডায় মেতে ওঠাই হলো আসল ব্রাজিলিয়ান লাইফস্টাইল!

ফিচার ডেস্ক