সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি দেখে চোখ জুড়ালো ভক্তদের
আধুনিকতার দৌড়ে কংক্রিটের জঙ্গল যখন চারপাশের পরিবেশকে গ্রাস করছে, তখন সম্পূর্ণ বিপরীত ধারায় হেঁটে এক অনন্য নজির গড়েছেন পরিবেশবিদ ও উদ্ভাবক সোনাম ওয়াংচুক। প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় মিতালিতে গড়া তাঁর লাদাখের বাড়িটি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শীত কিংবা গ্রীষ্ম এসি বা হিটার ছাড়াই ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার এই তাক লাগানো প্রযুক্তি দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা।
নিট প্রশ্নপত্র কেলেঙ্কারির বিরোধিতায় টানা ২৬ দিন অনশন করে সম্প্রতি ফের আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছেন সোনাম ওয়াংচুক। তবে শুধু আন্দোলনই নয়, একজন দূরদর্শী পরিবেশবিদ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রধান পরিচিতি। পাহাড়ের কোলে নিজের হাতে নকশা করা তাঁর ‘ইকোফ্রেন্ডলি সাস্টেনেবল হাউস’ এখন ইন্টারনেটে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
মাটি, কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এই বাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন সোনাম। কোথাও ব্যবহার করা হয়নি কোনো কংক্রিট, যা দেখে অনেকেই মজা করে একে ‘ট্রাইবাল হাউস’ বলে ডাকেন। লাদাখের হাড়কাঁপানো শীতেও এই বাড়িটি গরম থাকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে। বাড়ির একটি দিক পুরোপুরি কালো কাচ দিয়ে তৈরি, যা দিনের বেলা সূর্যের আলো টেনে ঘরকে উষ্ণ রাখে এবং রাতে ধীরে ধীরে সেই তাপ বিকিরণ করে।
গরমের দিনে এয়ার কন্ডিশনার ছাড়াই স্বস্তি মেলে এই বাড়িতে। কাচের দেওয়ালের ঠিক বিপরীত দিকে থাকা মোটা মাটির দেওয়াল কম তাপ শোষণ করায় ঘর ঠান্ডা থাকে। এমনকি জল গরম করতেও কোনো বিদ্যুৎ বা জ্বালানির প্রয়োজন হয় না, কালো কাচের দেওয়ালের ভেতর রাখা জলের বোতল সূর্যের তাপে গরম হয়ে প্যাসিভ সোলার প্রযুক্তিতে ঘরকে উষ্ণ রাখে।
বিজ্ঞানের পাশাপাশি বাড়ির প্রতিটা কোণায় রয়েছে লাদাখের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ছোঁয়া। বসার ঘরে নিচু আসন এবং রান্নাঘরের সঙ্গে ডাইনিং স্পেসের চমৎকার সংযোগ বাড়ির পরিবেশকে আরও উষ্ণ করে তুলেছে। তবে এই বাড়ির সবচেয়ে তাক লাগানোর মতো দিক হলো এর শৌচাগার ব্যবস্থা, যেখানে এক ফোঁটা জলও খরচ হয় না। বিশেষ স্যানিটেশন পদ্ধতিতে বর্জ্য থেকে প্রাকৃতিক সার তৈরি করা হয়, যা জল সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধ করে।
বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে সোনাম ওয়াংচুক বার বার বুঝিয়ে দিয়েছেন, আধুনিক জীবনযাপন মানেই কংক্রিটের অট্টালিকা নয়। স্থানীয় উপাদান ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়েও যে টেকসই জীবন গড়ে তোলা সম্ভব, তাঁর এই বাড়ি তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া,আনন্দবাজার, এই সময়

ফিচার ডেস্ক