‘মুসাফির ক্যাফে’র নায়িকার ক্যাফে স্টাইলের নজরকাড়া বাড়ির অন্দরমহল
বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়া শুধু রূপালি পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নয়, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁদের স্বপ্নের আবেশে ঘেরা বিলাসবহুল আবাসগুলোও ভক্তদের মনে সবসময় এক অদ্ভুত কৌতূহল জাগায়। ব্যস্ত শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে, নিজেদের মতো করে সাজানো এসব বাড়ি যেন একেকটি শিল্পকর্ম।
পর্দার চরিত্র ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনে তারকাদের অন্দরমহল কেমন হয়, তা জানার আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে থাকে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় তারকারা যখন তাঁদের শৈল্পিক রুচি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সাজান নিজেদের বাসস্থান, তখন তা হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুসাফির ক্যাফে’ সিনেমায় ‘সুধা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে ঝড় তোলা তরুণ অভিনেত্রী বেদিকা পিন্টোর মুম্বাইয়ের বাড়িটি ঠিক তেমনই এক মুগ্ধতার নাম। পর্দায় তাঁর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব আর বিক্রান্ত ম্যাসির সঙ্গে অনবদ্য রসায়ন যেমন দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে, তেমনি রিলস ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনো দ্যুতি ছড়াচ্ছে সেই চরিত্রটি। সুধা যেমন সবাইকে নতুন করে মুসৌরীর প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিল, তেমনি বাস্তব জীবনে ব্যস্ত মুম্বাইয়ের বুকে বাবা-মা, ভাই ও আদরের পোষ্যকে নিয়ে গড়ে তোলা বেদিকার এই উষ্ণ ও গোছানো পারিবারিক আশ্রয়স্থলটি এক অনন্য নান্দনিকতার পরিচয় দেয়।
খোলা রান্নাঘর
রান্নাঘর হলো ঘরের মূল কেন্দ্র। বেদিকা জানান যে, রান্না এবং একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া যেহেতু তাদের পারিবারিক জীবনের একটি কেন্দ্রীয় অংশ, তাই তাঁর বাবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটিকে একটি খোলা জায়গা হিসেবে ডিজাইন করেছেন। তাঁর অন্যতম পছন্দের একটি বৈশিষ্ট্য হলো একটি বিশেষ ড্রয়ার, যা বিভিন্ন ধরনের চাইনিজ সস এবং ভিনেগারে ভরপুর থাকে।
ডাইনিং এবং সাংস্কৃতিক সাজসজ্জা
ডাইনিং একাধিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এখানেই বেদিকা তাঁর ডিকশন ও হিন্দি ক্লাসে অংশ নেন। ক্যাবিনেটগুলো পরিবারের বিশ্ব ভ্রমণের সময় সংগ্রহ করা নানা ধরনের সস, সিজনিং এবং খাদ্যদ্রব্যে ভরা। এই স্থানটিতে তাঁদের মিশ্র পাঞ্জাবি হিন্দু এবং ক্যাথলিক ঐতিহ্যও ফুটে উঠেছে, যেখানে ভগবান গণেশ, ভগবান শিব এবং যিশু খ্রিস্টের শিল্পকর্ম ও মূর্তি রয়েছে।
লাউঞ্জ এবং বসার ঘর
লাউঞ্জে রয়েছে একটি পিয়ানো, যা বেদিকার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তাঁর বাবা তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। স্থানটি বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম, পারিবারিক ছবি এবং খেলাধুলার ট্রফিতে সজ্জিত; যার মধ্যে রয়েছে একটি পুনরুদ্ধার করা লেবাননের খবরের কাগজের শিল্পকর্ম এবং বিখ্যাত ‘গ্রিন চোলি’ পেইন্টিং। তাঁদের পোষা কুকুর বেনজিও ঘরের মধ্যে সব সময় থাকে এবং তার খেলনাগুলো সারা ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে।
গেমস কর্নার
এটি প্রাণবন্ত বিনোদনের কেন্দ্র, যা বেদিকা ও তাঁর বাবা-মা গেটটুগেদার আয়োজনের সময় প্রায়ই ব্যবহার করেন। এখানে বোর্ড গেমের একটি সংগ্রহ রয়েছে, যার মধ্যে ‘বেদিকা’স বলিউড সিচুয়েশন’ শিরোনামে একটি বন্ধুর তৈরি কাস্টমাইজড মনোপলি বোর্ডও রয়েছে। এই এলাকায় বেদিকার বাবার সংগ্রহ করা ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকের ফ্রেম করা ভিন্টেজ বিজ্ঞাপনের প্রিন্টও রয়েছে, যিনি পূর্বে একজন বিজ্ঞাপন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কাজ করতেন।
ব্যালকনি টেস্টিং/টেরেস
ব্যস্ত রাস্তার ধারে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও, ব্যালকনিটি সবুজ গাছপালায় ঘেরা একটি শান্ত আশ্রয়স্থল। এই জায়গাটিতে গোয়ান-পর্তুগিজ প্রভাব রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পর্তুগালের ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড এবং ভিনশিয়ান মাস্ক, যা পরিবারের পৈতৃক শিকড়কে সম্মান জানায়। এটি স্ক্রিপ্ট পড়া, নাচের অনুশীলন করা এবং অবসর কাটানোর জন্য বেদিকার সবচেয়ে পছন্দের স্থান।
শয়নকক্ষ এবং মিডিয়া রুম
শয়নকক্ষ, যাকে বেদিকার ব্যক্তিগত অভয়ারণ্যে রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে তিনি সেজে ওঠেন, রিহার্সাল করেন, পড়েন এবং সিনেমা দেখেন। এখানে তাঁর ব্যক্তিগত বুকশেলফ বা বইয়ের তাকও রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

ফিচার ডেস্ক