দাম্পত্য জীবনে রোমান্স ফেরাতে চান, এই ‘২-২-২’ নিয়ম মেনে চলুন
সংসার, কাজ, সন্তান ও নানা ব্যস্ততায় অনেক সময় দম্পতিদের নিজেদের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কেও একঘেয়েমি তৈরি হতে পারে। এই ব্যস্ততার মধ্যেও সম্পর্ককে সময় দেওয়ার একটি সহজ পদ্ধতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘২-২-২’ নিয়ম। নিয়মটি খুব সহজ প্রতি দুই সপ্তাহে একটি ডেট, প্রতি দুই মাসে একটি ছোট ভ্রমণ এবং প্রতি দুই বছরে একটি বড় ছুটি।
কী এই ‘২-২-২’ নিয়ম?
প্রতি দুই সপ্তাহে দুজনের জন্য আলাদা সময় রাখতে হবে। বাইরে খেতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, হাঁটতে যাওয়া কিংবা বাড়িতে বসে গল্প করাও হতে পারে সেই সময়ের অংশ। এরপর প্রতি দুই মাসে ছোট কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কাছাকাছি কোথাও একদিন ঘুরে আসা বা এক রাত কাটানোও যথেষ্ট। আর প্রতি দুই বছরে সুযোগ অনুযায়ী কয়েক দিনের একটি বড় ছুটির পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
কেন কাজে আসতে পারে?
ব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতিই ভাবেন, ‘সময় পেলে একসঙ্গে কোথাও যাব।’ কিন্তু সেই সময় অনেক ক্ষেত্রেই আর হয়ে ওঠে না। তাই আগে থেকেই দুজনের জন্য সময় ঠিক করে রাখাই এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে একই রুটিন থেকেও একঘেয়েমি তৈরি হতে পারে। নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে যাওয়া বা নতুন কিছু করার মাধ্যমে সেই একঘেয়েমি কিছুটা কমানো সম্ভব।
বেশি খরচের প্রয়োজন নেই
‘২-২-২’ নিয়ম মানতে গিয়ে দামি রেস্তোরাঁ কিংবা বিদেশ ভ্রমণ করতেই হবেএমন নয়। কাছের কোনো পার্কে হাঁটা, ছাদে বসে গল্প করা, একসঙ্গে রান্না করা কিংবা প্রিয় সিনেমা দেখাও হতে পারে দুজনের বিশেষ সময়। মূল বিষয় হলো খরচ নয়, একে অপরকে সময় দেওয়া।
নিয়মটি নিজের মতো করে নিন
সব দম্পতির পক্ষে দুই সপ্তাহে ডেট বা দুই মাসে ভ্রমণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই এটিকে কঠোর নিয়ম হিসেবে দেখার দরকার নেই।নিজেদের সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনাটি বদলে নেওয়া যায়। দুই মাসে ভ্রমণ সম্ভব না হলে একদিনের ঘোরাঘুরি হতে পারে। দীর্ঘ ছুটি সম্ভব না হলে কয়েক দিনের ছোট বিরতিও যথেষ্ট। শেষ পর্যন্ত ‘২-২-২’ নিয়মের মূল কথা হলো—ব্যস্ততার মধ্যেও সঙ্গীর জন্য আলাদা সময় রাখা। কারণ সম্পর্ক শুধু একই ঘরে থাকা নয়; একে অপরের সঙ্গে কথা বলা, সময় কাটানো এবং নতুন স্মৃতি তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

ফিচার ডেস্ক