অভিমত
মে দিবস নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা বন্ধ হোক
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেটুকু প্রত্যাশা ছিল সে অনুযায়ী প্রাপ্তি ঘটেনি। মে দিবস হচ্ছে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির লড়াইয়ের দিবস এবং যার শেষ ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে পুঁজিবাদকে অপসারিত করে সেখানে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশে এর কিছুই নেই। আট ঘণ্টার শ্রম দিবস নিয়ে মে দিবসের সূত্রপাত। অথচ এখনো বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে আট ঘণ্টার বেশি শ্রম দিতে হয়। এখানকার আইনে আছে আট ঘণ্টার পর, দুই ঘণ্টা সর্বোচ্চ ওভার টাইম করা যেতে পারে। কিন্তু এই ওভারটাইম আরো বেশি করানো হয়।
এখন জাতীয় সংসদের বেশির ভাগ সদস্যই ব্যবসায়ী। ফলে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী এই সরকার মে দিবস পালন করার মাধ্যমে মে দিবসকে উপহাস করছে। মে দিবসকে ঠাট্টায় পরিণত করেছে। মে দিবসকে তারা বলে শ্রমিক মালিকের সম্পর্ক আরো সুন্দর হোক। এর মানে কি? শ্রমিকের ওপর মালিকের দ্বাসত্ব মানে শ্রমিকের দ্বাসত্ব আর যে মালিকের প্রভুত্ব সেটা যেন আরো দৃঢ় হয়।
মে দিবসের তাৎপর্য হচ্ছে মালিক থাকবে না, পুঁজিপতি থাকবে না। শ্রমিক শ্রেণি হবে সব সম্পদের মালিক। যার শ্রম, সেই হবে মালিক। কিন্তু বাস্তবে যেটা হচ্ছে নিকৃষ্ট ধরনের পুঁজিবাদ, শ্রমিকের ওপর শোষণ নির্যাতন। তারপর রানা প্লাজার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
ফলে মে দিবসের তাৎপর্য হওয়া উচিত, এই শোষক শ্রেণিকে উৎখাত করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং এই বুর্জোয়া দলগুলোর বিরুদ্ধে আজকে বাম শক্তির পক্ষে শ্রমিক শ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসা।
গার্মেন্টসের যে মজুরি সেটা তো হাস্যকর মজুরি। এটা দিয়ে চলতে পারে না। মন্ত্রীরা এই টাকা দিয়ে চলুক। কোনো মন্ত্রী এই টাকা দিয়ে চলতে পারে? কোটি কোটি টাকার মালিক তারা। রানা প্লাজার ঘটনায় যারা মারা গেছে তাদের পরিবার কতটুকু ক্ষতিপূরণ পেয়েছে? যারা আহত হয়েছে তারা আজ পর্যন্ত কাজ পায়নি। এমনটাই তো হওয়ার কথা, কারণ এটা হচ্ছে বড়লোকের সরকার। ধনী শ্রেণির সরকার। পুঁজিপতিদের সরকার। মে দিবস হচ্ছে তাদেরই বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিবস এবং মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির প্রত্যয় ঘোষণার দিবস। তো এখানে আজকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বা বিরোধীদলীয় নেত্রী যখন কথা বলে তখন হাসি পায়। মনে হয় যেন ঠাট্টা মশকরা করছে মে দিবস নিয়ে।
লেখক : সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, সিপিবি

হায়দার আকবর খান রনো