পাহাড়ধস ও কিছু কথা
পাহাড়ধসে এ বছর পাঁচ সেনাসদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হয়। ২০০৭ সালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ে বসবাসকারীরা সচেতন হলে হতাহত অনেকাংশে কম হতে পারত। সে আলোচনা পরে হবে, তবে পাহাড় নিয়ে কিছু মানুষ বেশি আগ্রহী থাকে, সে আগ্রহটা সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেওয়ার প্রবণতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের লেখা দেখলাম, পাহাড়ে বসবাসকারীরা আদিবাসী, উপজাতি তাই কেউ তাদের সহায়তা করছে না। ওই লেখায় অনেকে হাওরে দুর্যোগে মানুষের সহায়তা তুলে ধরেছেন। হাওরবাসী বাঙালি, তাই সহায়তা করা হয়েছে। আর পাহাড়িরা ‘উপজাতি’, তাই তাদের সহায়তা করা হয় না।
এবার আসি পাহাড়ধসে কারা নিহত। আমি মনে করি পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষ নিহত হয়েছে। সেটলার আর পাহাড়ি মুখ্য নয়। প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকে দেখলাম, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত ৫৫ জন পাহাড়ধসে নিহত হয়েছে। তার মধ্যে ৫৩ জনই সেটলার বাঙালি। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাহাড়ধসে নিহতদের ৬৪ ভাগ বাঙালি নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাহাড়ে বসবাসকারী আক্রান্তদের সহায়তা মুখ্য হওয়া উচিত, বাঙালি, অবাঙালি দেখা নয়। পাহাড়ে উদ্ধারকাজে গিয়ে পাঁচ সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেওয়ার মতো পোস্ট দিয়েছেন।
কয়েকদিন আগে এক বাঙালিকে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ে অশান্তি শুরু হয়, বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর কেউ কেউ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকার বাহিনীর অত্যাচার ও হামলার ছবি, পাহাড়িদের ওপর হামলার ছবি বলে চালিয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতা না ছড়িয়ে পাহাড়ে বসবাসকারীদের পাশে দাঁড়াই। দেশের যেকোনো বিপর্যয়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। পাঁচ সেনাসদস্য উদ্ধারকাজেই নিহত হয়েছেন।
পাহাড়ে বসবাসকারীদের আরো সচেতন করে তুলতে পারলে এত বড় ঘটনা নাও ঘটতে পারত। সাম্প্রতিক সময়ে ‘মোরা মূর্ণিঝড়’ নিয়ে সরকারি প্রচারণা আর সচেতনতা বৃদ্ধি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে যথেষ্ট কাজ করেছে। বনায়ন ধ্বংস আর পাহাড় কাটার কারণেই অতিবৃষ্টি হয়, যার কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
১৯৬৩ সালে যেখানে এক লাখ ৬৭ হাজার বনভূমি ছিল, ২০০৫ সালে সেখানে ৭০ হাজার হেক্টর বনভূমি। আসুন পাহাড় কাটা বন্ধ করি, গাছ কাটা বন্ধ করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ করি।
লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব।

মাহিদুল ইসলাম মাহি