অভিমত
রিশার হত্যাকারী ৪৮ ঘণ্টায় আটক, বাকিগুলো?
মাইক্রোফোনগুলো আমার হাতেই ছিল। এসি (রমনা জোন) শিবলী নোমান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিশা হত্যায় অভিযুক্ত ওবায়দুলকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেন। আশপাশে তাকিয়ে দেখলাম কারো চেহারায় কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না? ঠিক সাতদিন আগে গত সপ্তাহে কাকরাইল মোড়টায় ট্রাফিক সদস্যদের দাঁড়ানোর স্থায়ী ছাতাটার নিচে নোমান ভাইয়ের সামনে আমি। কিন্তু মনটা চলে গেল ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারে নিউজের ভাষায় ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি’র বাসায়। সেদিনও সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এ রকমই এক ৪৮ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতি শুনেছিলাম। একবার মনে হচ্ছিল, সেই ৪৮ ঘণ্টার মতো হবে না তো? পরক্ষণেই মনে হচ্ছিল, কাছাকাছি না পৌঁছে এমন সময় বেঁধে দেওয়ার কথা না।
ক্রাইম রিপোর্টিং খুব খারাপ জিনিস, সহজে কাউকে বিশ্বাস হয় না। যেমন করে না পুলিশ। কোনো ঘটনা ঘটলে আশপাশে কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখেন না তদন্তকারী কর্মকর্তা। তেমনি ক্রাইম রিপোর্টিংয়ে কোনো আশ্বাস শুনলেই মনে বিভিন্ন খটকা বাসা বাঁধে। কারণ, অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কাউকে বাগে আনার ৮০ ভাগ কাজ করা ছাড়া কখনো নাম কিংবা পরিচয় খোলাসা করবে না কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো সংবাদ সম্মেলনে যদি কেউ বলেন, তদন্তের স্বার্থে জড়িতদের নাম বলা যাচ্ছে না, তবে বোঝা যায় এখনো অবস্থান পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি তাঁরা। আর যদি বলা হয় অমুক জড়িত, তমুককে খোঁজা হচ্ছে তবে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়, হয় গ্রেপ্তার কিংবা হাতের নাগালে আছে।
এতক্ষণ এত কথা বলার কারণ সেই ৪৮ ঘণ্টা। অবশেষে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ধরা পড়েছে ওবায়দুল। স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। বাহবা করার মতো কাজ করেছে ডিএমপির রমনা জোন। পুলিশের একটি দল ঠাকুরগাঁও থেকে অভিযান শুরু করে নীলফামারীর ডোমারে পাওয়া যায় দরজি ওবায়দুলকে। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ওবায়দুলকে ধরতে পারার কারণ কি? সে অল্প শিক্ষিত, সেটা? না কি উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি? এমন কর্মসূচি তো তনু হত্যার সময়ও হয়েছিল, সাগর-রুনির বেলায় তো দিনের পর দিন মাসের পর মাস মানববন্ধন হয়েছে, লেখালেখি হয়েছে, কঠোর(!) আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সাংবাদিক নেতারা। কিছুই তো হলো না।
আমার কাছে দুটি কারণ মনে হয়, ১. কোনো রাজনীতি ছিল না রিশা হত্যায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে। না হলে, এখনো সেই আলোচিত ৪৮ ঘণ্টার মতোই রিশার ছবি ঝুলতে থাকত উইলসের শিক্ষার্থীদের বুকে।
২. পুলিশ নিজে আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ চাইলে একজোড়া স্যান্ডেলও চুরি হবে না দেশের কোনো মসজিদ থেকে, ঘটনা সত্য। সেটা চাওয়ার ওপর নির্ভর করে। রিশা হত্যায় অভিযুক্তকে ধরতে চেয়েছে বলেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাগে এসেছে ওবায়দুল। কোনো ওপরের নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে ধরার জন্য। তাই প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ঘোষিত সময়ের মধ্যেই।
আশায় থাকব, এমন যত ঘটনা আছে সবগুলোর আসামি ধরার আশ্বাস পুলিশ দিক। চিঁড়ে-ভেজানো কথামালা আমরা চাই না।
লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

রাশেদ নিজাম