শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধ ‘ভোগান্তির উৎসব’
আমাদের তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ যতই পড়াশোনা প্রিয় কিংবা বিমুখ হোক না কেন; একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রায় সবার চাহিদা একই। মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া চাই-ই চাই! বুঝে কিংবা না বুঝেই সে চেষ্টায় ব্রত হয় এ প্রজন্মের প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থী। এ অবস্থা শেষমেশ যা দাঁড়ায়, তা এক এলাহী কাণ্ড! আর এ কারণেই বোধহয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা আজ ভর্তিযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শব্দটির ব্যবহার কমে এসে আজকাল ভর্তিযুদ্ধ শব্দটির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এ যুদ্ধ মেধার যুদ্ধ। লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র কয়েক হাজার যোদ্ধা বিজয়ী হবে এ যুদ্ধে। এ জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়; যাতে ভর্তি করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের ছেঁটে ফেলাই মুখ্য বলে প্রতীয়মান হয়। যুদ্ধটাও বেশ হাড্ডাহাড্ডি হয়; সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু আপত্তি অন্যখানে। আর এই আপত্তির কারণেই এই যুদ্ধটাকে শুধু মেধার যুদ্ধ বলার কোনো উপায় থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এখন শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক যুদ্ধের এক প্যাকেজে ‘ভোগান্তির উৎসব’।
এ মাসের ২৩ তারিখ ২০১৬-১৭ সেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউইনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আলোচনায় আসে খুলনা থেকে আসা একদল শিক্ষার্থীর ভোগান্তির চিত্র। বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়। একটি কোচিং সেন্টারের প্ররোচনায় পড়ে ওই শিক্ষার্থীরা বাস ভাড়া করে এসেছিল পরীক্ষা দিতে। বেশ রাত করেই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসে। যখন বাসে থাকা ছেলেদের জন্য আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়া সম্ভব হলেও মেয়েদের কোনো ব্যবস্থায় করতে পারেননি কোচিং সেন্টারের মালিকরা। বাসে অবস্থান করা মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের হলের গেস্ট রুমের ওয়াশ রুম ব্যবহার করে একটু পরিষ্কার হয়ে ওই বাসেই রাতযাপন করেন! এত লম্বা ভ্রমণের পর কেউ পড়তে পড়তে রাত শেষ করেন; আবার কেউ বাসেই একটু বিশ্রাম নেন। একই দিনে সকাল ও বিকেলে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় তাঁদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোচিং সেন্টারের মালিকরা অবশ্য গণমাধ্যমকে অন্য কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। ফেরিঘাটে যানজট আছে ভেবে একটু সময় নিয়েই বের হওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁরা দাবি করেন, যানজট না থাকায় একটু আগেই বাসটা পৌঁছে যাওয়ায় রাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তাঁদের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। বাসে থাকলে তাঁদের ভ্রমণের ওপর থাকতে হতো এবং সকালে পরীক্ষায় অংশ নিতেন। হলে থাকার কথা বলে তাঁদের নিয়ে আসা হয়েছে শিক্ষার্থীদের এমন দাবির মুখে এসব কথা বলে কোচিং কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার জন্য যেমন কোচিং সেন্টারকে দায়ী করেছেন; তেমনি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় কেউ কেউ কোচিং সেন্টারকে দুষছেন। একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীর জন্য কোনো অবস্থায় পরীক্ষার আগের রাতে এমন ক্লান্তিকর ভ্রমণ কাম্য নয়। কোনো না কোনোভাবেই আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা আজ এসব ঘটনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলছে।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন আট লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ শিক্ষার্থী। এ সংখ্যার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে যোগ হবেন গতবারের অবশিষ্ট ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখের মতো শিক্ষার্থী এবারের ভর্তিযুদ্ধে নামছে। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৭৬ শিক্ষার্থী। ৩৮টি পাবলিক ও ৮৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্নাতক (পাস/সম্মান) শ্রেণিতে মোট আসন আট লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬টি। সে হিসেবে এবারের ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কিছু অংশ বিদেশে পড়তে গেলেও দেশের অনেক শিক্ষার্থীই কোথাও ভর্তি হতে পারবে না। অথচ এবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২৮টি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। যেখানে গতবারের তুলনায় অতিরিক্ত সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, এ দেশের উচ্চশিক্ষার কী অবস্থা! যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সিট রীতিমতো সোনার হরিণ, সেখানে মানসম্মত শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অনেক পরের কথা। গোড়াতেই যে মহাগলদ! একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি। যে কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা, সময় ও শ্রম। ভ্রমণের ক্লান্তি আর মানসিক যন্ত্রণার সঙ্গে যোগ হয় নানা হয়রানি।
এক. আর্থিক ক্ষতির কথা যদি বিবচনায় আনা হয়; তাহলে দেখা যাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি একটি ‘অর্থনৈতিক হেনস্তা প্রক্রিয়া’! আসলে এ প্রক্রিয়ার শুরুটা হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে। বিষয়ভিত্তিক বাণিজ্যিক কোচিংগুলোতে চড়া মূল্যে বিদ্যা কিনতে যাওয়া থেকে এ প্রক্রিয়ার শেষটা হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে খ্যাত পিপিপি ধরনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কাড়ি টাকা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করার মাধ্যমে। যাঁরা এসব কিছু না করে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেছে নেন সেই শিক্ষার্থীদের নয় বরং তাদের অভিভাবকদের জন্য রইল আরো বেশি সমবেদনা! পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী ও তাঁর অভিভাবকদের ভর্তি পরীক্ষার টাকা জোগাড় করতে; বিশেষ করে ফরম কেনার টাকা জোগাড় করতে কী ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয় তা একটু গল্পচ্ছলে বলে নেওয়াই ভালো। আগে একটা সময় ছিল যখন অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয় করতেন। পরিচিত অনেক অভিভাবককে বলতে শুনেছি, ওর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক টাকা-পয়সা খরচ হবে তো; তাই ব্যাংকে একটা আলাদা হিসাব খুলে টাকা জমাচ্ছি! অবস্থা সহজেই অনুমেয়। অভিভাবকদের কী পরিমাণ আর্থিক দণ্ড দিতে হয় এই ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। দিন বদলেছে, অভিভাবকরা এখন যৌতুক কিংবা বিয়ের বড় অনুষ্ঠানের জন্য টাকা খরচের মানসিকতা পরিবর্তন করে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার মানসিকতা পোষণ করছে, এটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা নামক অনুৎপাদশীল খাতের জন্য ব্যয় একেবারেই উচিত নয়, তা বলা বাহুল্য। এখানে ব্যয় করা অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আদায় করে মাত্র এক শ্রেণির পেশাজীবীরাই লাভবান হচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এই লাগামহীন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের লেজটা এখনই টেনে ধরা প্রয়োজন। যেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই ভিন্ন ভিন্ন ইউনিটে পরীক্ষা দিতেই রেজিস্ট্রেশনের নামে বহু টাকার আর্থিক হয়রানির শিকার হতে হয়। আর পছন্দের তালিকায় যদি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থাকে, তাহলে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা নেহাত কম না। হাতে গোনা এখন ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এর ওপর বাড়তি অত্যাচার হিসেবে যোগ হয়েছে, প্রতিবছর প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বাড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কপালের ভাঁজটা লম্বা করার ধারাবাহিকতা। মোটের ওপর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় যাতায়াতের বাড়তি ভাড়া গোনার সঙ্গে থাকা-খাওয়ার খরচটা কোনো অংশেই কম না। বরং পরীক্ষা দিতে আসা অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আয়ের সুযোগ হিসেবে এই দিনটা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ‘একটা দিনই তো নেব’ তত্ত্বের মাধ্যমে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করে থাকে। সব মিলিয়ে একটা শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাবা-মাকে বাড়তি একটা চাপ নিতেই হয়। সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার্থীটি যদি ছাত্র না হয়ে ছাত্রী হয়ে থাকে, তাহলে সে চাপটা আরো বেড়ে যায়। একটা ছেলের জন্য সব কিছু ম্যানেজ করে পরীক্ষা দেওয়া যতটা সম্ভব, সামাজিক প্রেক্ষাপট দৃষ্টে একটা মেয়ের জন্য সেটা আদৌ সম্ভব কি না সে প্রশ্ন থেকেই যায়!
দুই. দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এক থেকে অন্যটির দূরত্বও নেহাত কম না। আর এই দূরত্ব অতিক্রমের জন্য এ দেশে যাতায়াতের ব্যবস্থা যে খুব ভালো সেটা বলা যাবে না। অভিজ্ঞতা যেটা বলে, ভর্তি পরীক্ষার আগে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রেনে যাতায়াত করতে চাইলে রাতের ঘুম তো দূরের কথা ট্রেনে ঠিকমতো নিশ্বাস ফেলতে পারবেন না! বাসের ক্ষেত্রে তেমনটা না হলেও বাড়তি ভাড়ার চাপ আর পথের ক্লান্তি থেকে রেহাই পাওয়া তো কোনোভাবেই সম্ভব না। এখন তো, যাতায়াতের পরিশ্রম কমাতে অভিভাবকরা মিলে বিলাসবহুল বাস কিংবা কার ভাড়া করে একসঙ্গে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসতে দেখা যায়। সব অভিজ্ঞতা যে সুখকর হয়, তা বলা যাবে না। কারণ একটা পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই যখন অন্য একটা পরীক্ষার জন্য দৌড়াতে হয়, তখন শারীরিক ক্লান্তির ফলে মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে কি না, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
তিন. আর্থিক ও শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে যন্ত্রণার বিষয় হচ্ছে মানসিক বিড়ম্বনা। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক দুই শ্রেণিকেই সামগ্রিক ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোথায় কোথায় পরীক্ষা দেবে, কোন ইউনিটে, কোন বিষয়ের পরীক্ষা কবে? কীভাবে যাবে সেখানে? থাকবে কোথায়? সিট পড়েছে কোথায়? আগে সেখানে যাওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলে তো মহাবিপদ! নতুন জায়গা চিনবেই বা কীভাবে? এ রকম কত শত প্রশ্ন আর তার সম্ভাব্য সব উত্তর নিয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থী যখন মগ্ন, তখন পরীক্ষা দেওয়াটা মাঝে-সাজে গৌণ হয়ে যায়। ঠিকমতো পরীক্ষা দেওয়ার বদৌলতে কোনোমতে পরীক্ষা শেষ করে বাসায় ফেরাটা হয় মুখ্য। পরীক্ষা দেওয়া শেষ হলে তার ফলাফল পাওয়া নিয়ে তৈরি হয় আরেক ঝামেলা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের চিন্তা তো আছেই, সঙ্গে হালের প্রযুক্তি বিড়ম্বনা; মানসিক যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন ছেলেমেয়েরা যেন এই অসম প্রতিযোগিতার ভিড়ে অপরাধে না জড়িয়ে যায়। আর শিক্ষার্থীদের মাথায় ভূতের মতো লেগে থাকে; বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে পড়তেই হবে। তা না হলে এ সমাজ আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে। দেখবে ভিন্ন দৃষ্টিতে, এটা আমার সইতে কষ্ট হবে। এই দুয়ের মাঝে তৈরি হয় এক মহাসংকট!
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেগুলোতে আসনসংখ্যার প্রায় চার-পাঁচগুণ শিক্ষার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। দেখা যায় যে ওই মৌখিক পরীক্ষার দিনেই কোনো শিক্ষার্থীর অন্য কোথাও পরীক্ষার তারিখ কিংবা মৌখিক পরীক্ষা থাকে। যাঁদের মেধাক্রম একটু পিছিয়ে, তাঁরা মৌখিক পরীক্ষা দিলে সাবজেক্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ফিফটি-ফিফটি। দোলাচল অবস্থার শিকার হন তাঁরাই বেশি। তৈরি হয় মানসিক অস্থিরতা। মৌখিক পরীক্ষা দেবেন নাকি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন? অথচ মৌখিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের অযথা হয়রানি করা হয়। কারণ মৌখিক পরীক্ষায় কোনো নম্বর থাকে না। শুধু বিষয় চয়েস ফরম পূরণের জন্য এটা করা হয়। প্রয়োজনে এটা অনলাইনেও করা যায়।
বুক ভরা আশা নিয়ে যখন অভিভাবকরা তাঁদের মেধাবী সন্তান নিয়ে ক্লান্তিহীনভাবে দু-চার মাস সারা দেশে ছোটাছুটি করে ব্যর্থ হচ্ছেন; তখন ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কেমন হয় বা ওই অভিভাবকরা কী রকম উদ্বেগে থাকেন সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি না। অদ্ভুত এক শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের। যেই শিক্ষার্থী এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে শতকরা ৮০ ভাগের ওপর নম্বর পাচ্ছে। সেই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে অজস্র স্বপ্নের বীজ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। এ যেন গাছে তুলে দিয়ে মই টান দেওয়ার মতো অবস্থা। শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছে, অভিভাবকরা হচ্ছে শঙ্কাগ্রস্ত। আর এই ব্যর্থতার বোঝা অনেকেই বইতে না পেরে কেউ বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ, কেউ বা হচ্ছে মাদকাসক্ত। ভর্তি পরীক্ষার ভোগান্তি নিয়ে অনেকেই লেখালেখি করলেও সংশ্লিষ্ট মহল এ ভোগান্তি নিরসনে কোনো উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট নয়। এ ভোগান্তির শেষ কোথায়? তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রচলিত এই নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা চলতেই থাকবে? মেডিকেলে ভর্তির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত একটি ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি কি আদৌ সম্ভব না?
লেখক : শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ