ছোটদের বিশ্বজয়, বড়দের লজ্জার হার
আকবর-শরিফুলদের হাত ধরে প্রথমবার যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক আসরে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। যুবাদের সাফল্যে পুরো দেশ যখন আনন্দের বন্যায় ভাসছে, তখন রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানের কাছে এক ইনিংস ও ৪৪ রানে হারল বাংলাদেশ জাতীয় দল।
রাওয়ালপিন্ডিতে গতকাল রোববারই হতাশায় ডুবেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ৪৪৫ রান করে অলআউট হয়। স্বাগতিক দলটি লিড পায় ২১২ রানের। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৩৩। কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে তামিম-সাইফরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত চেষ্টা করেন প্রতিরোধ গড়ার। না, শেষ পর্যন্ত তা পারেননি তাঁরা। পাকিস্তানি পেসার নাসিম শাহর হ্যাটট্রিকের ম্যাচে তৃতীয় দিন শেষে একেবারেই বিপর্যন্ত অবস্থায় পড়ে যায় বাংলাদেশ।
আজ সোমবার চতুর্থ দিনেও সেই বিপদ কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ। পারেনি লড়াই করতে। দিনের প্রথম ওভারেই অধিনায়ক মুমিনুলকে ৪১ রানে হারায় বাংলাদেশ। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান মুমিনুল হক। এরপর একে একে উইকেট হারিয়ে ম্যাচটিতে ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা পেল বাংলাদেশ।
গতকাল কিছুটা লড়াই করেছিলেন শান্ত। কিন্তু বেশি দূর নিতে পারেননি। ইনিংসের ৪১তম ওভারের চতুর্থ বলে শান্ত সাজঘরে ফেরেন। ৮৭ বলে ৩৮ রান করে ফিরে যান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দারুণ এক ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হয়ে যান নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম। ওভারের শেষ বলে অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ।
দিনের শুরুতেই পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন আবু জায়েদ রাহি। ফিরিয়ে দেন সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজমকে। সাজঘরে ফেরার আগে ১৪৩ রান করেন বাবর। ১৯৩ বলের ইনিংসটিতে ছিল ১৯টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা।
বাবর ফিরলেও পাকিস্তানকে টানেন হারিস সোহেল ও আসাদ শফিক। ৬৫ রানে আসাদকে সাজঘরে পাঠান এবাদত হোসেন।
তবে থেমে যাননি সোহেল। বোলারদের নিয়ে দলকে বিশাল সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৪৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
গত শনিবার প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তিন উইকেট হারিয়ে ৩৪২ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে পাকিস্তান। দিন শেষে উইকেটে ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজম। ১৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন আসাদ শফিক। ১০৯ রানে এগিয়ে থেকে কাল তৃতীয় দিন শুরু করে পাকিস্তান। এর আগে গত শুক্রবার প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।
প্রথমদিন টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। হারায় অভিষেক হওয়া সাইফ হাসানকে। সাইফের পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি তামিমও।
হাল ধরতে পারলেন না অধিনায়ক মুমিনুল হকও। লড়াইয়ের আশা জাগিয়ে আফ্রিদির বলেই ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ৫৯ বলে ২৮ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় এড়ানোর চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহ। দুই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৫০ রানের জুটি। তাঁদের ব্যাটে ভর করে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে মধ্যাহ্ণ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
কিন্তু বিরতি থেকে ফিরেই আবারও উইকেট বিলাতে শুরু করেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বিরতির পর পরই আউট হন তরুণ এই ওপেনার। ফেরার আগে ৪৪ রান করেন তিনি।
শান্তকে সঙ্গ দেওয়া মাহমুদউল্লাহও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। ৪৮ বল মোকাবিলা করে ফিরে যান তিনিও। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে হাল ধরার চেষ্টা করেন লিটন দাস। ৫৪ রানের প্রতিরোধ গড়া জুটি ভাঙেন হারিস সোহেল।
এরপর তাইজুলকে নিয়ে দলকে টানেন মিঠুন। দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুলও। তাতে সপ্তম উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরা জুটি পায় বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ বিকেলে এই জুটি ভাঙলে ২৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৩৩/১০ (তামিম ৩, সাইফ ০, শান্ত ৪৪, মুমিনুল ৩০, মাদমুদউল্লাহ ২৫, মিঠুন ৬৩, লিটন ৩৩, তাইজুল ২৪, রুবেল ১, রাহী ০, এবাদত ০; আফ্রিদি ২১.৫- ৩-৫৩-৪, আব্বাস ১৭-৯-১৯-২, নাসিম ১৬-০-৬১-১, ইয়াসির ২২-২-৮৩-০, সোহেল ৬-২-১১-২)।
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ৪৪৫/১০ (শান ১০০, আবিদ ০, আজহার ৩৪, বাবর ১৪৩, আসাদ ৬৫, সোহেল ৭৫, রিজওয়ান ১০, ইয়াসির ৫, আফ্রিদি ৩, আব্বাস ১, নাসিম ২ ; এবাদত ২৫-৬-৯৭-১, আবু জায়েদ ২৯-৪-৮৬-৩, রুবেল ২৫.৫-৩-১১৩-৩, তাইজুল ৪১-৬-১৩৯-২, মাহমুদউল্লাহ ২-০৬-০)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ৬২.২ ওভারে ১৬৮/১০ (তামিম ৩৪, সাইফ ১৬, শান্ত ৩৮, মুমিনুল ৪১, তাইজুল ০, মাহমুদউল্লাহ ০, মিঠুন ০, লিটন ২৯, রুবেল ৫, রাহি ৩, এবাদত ০; আফ্রিদি ১৬-৬-৩৯-১, আব্বাস ১৭.৪-৬-৩৩-১, নাসিম ৮.২-২-২৬-৪, ইয়াসির ১৭.১-৩-৫৮-৩, আসাদ ৩-০-১২-০)
ফল : ইনিংস ও ৪৪ রানে জয়ী পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক