‘বাংলা মা শিখিয়েছে, তাই বাংলাই ভালো লাগে’
কাটার-মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান অনেকটাই লাজুক প্রকৃতির। স্বল্পভাষীও বলা যায়। নিজেকে সবসময় আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক, কখনোই নিজ দেশের ভাষা ‘বাংলা’ থেকে বেরিয়ে আসেননি। অনেক সময় তা নিয়ে কথাও শুনতে হয় তাঁকে। তবে সমালোচনা গায়ে মাখেন না তারকা এই পেসার। এনটিভি অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ জানালেন, বাংলা মায়ের ভাষা— তাই বাংলাতেই কথা বলতে বেশি পছন্দ করেন দেশের অন্যতম সেরা এই পেসার।
মুস্তাফিজের কথায়, ‘আসলে আমি একটু কম কথা বলতেই পছন্দ করি, নিজের মতো থাকতে পছন্দ করি। তবে মিডিয়া ফোকাসের সামনে না আসলেও সবার সঙ্গে মিশি, কথা বলি। আর ভাষার কথা বললে, আমি বাংলাদেশের মানুষ। আমি যেভাবে আছি সেভাবে থাকতে ভালোবাসি। কারা কি করে বা বলে সেটা নিয়ে ভাবি না। বাংলায় কথা বলতে ভালো লাগে। এটা আমার মা শিখেয়েছে, তাই বাংলাই ভালোলাগে।’
২০১৫ সালে অভিষেক দিন থেকেই পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কাটার অস্ত্র নিয়ে ব্যাটসম্যানদের আতঙ্কের কারণ হয়েছিলেন। আইপিএলেও আলো ছড়িয়েছেন। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে ছন্দপতন ঘটে মুস্তাফিজের।
ইনজুরি আর পারফরম্যান্সের ছন্দ পতনের বেড়াজালে নিজেকে হারিয়ে খুজচ্ছেন মুস্তাফিজ। গত বিশ্বকাপেও আশানুরূপ সাফল্য পাননি। তবে নতুনভাবে ফেরার চেষ্টায় আছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শুরুটা ভালো হয়নি, শেষে সেটা বেশ ভালোভাবেই পুষিয়ে নিয়েছেন। রংপুর রেঞ্জার্সের জার্সিতে ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ২০টি উইকেট। মাঝে পাকিস্তানে তেমন ভালো না হলেও ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যথেষ্টই সাফল্য পেয়েছেন। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে দুটি করে ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১০টি উইকেট। বোলিং ইকোনোমিও ছিল ভালো। সবমিলিয়ে ঘরের মাঠে ফেরার লড়াইটা খারাপ কাটছে না তাঁর।
নিজের ভালো ও খারাপ সময়ের পার্থক্য নিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘ভালো সময় যেকোনো কিছুই ভালো যায়। কিন্তু যখন খারাপ সময় যখন আসে, তখন চেষ্টা করি কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়— কীভাবে ভালো বল করা যায়। আমি মনে করি, যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই ভালো-খারাপ সময় আসে, ওইটা আসলে মেনে নিয়েই চলতে হবে।’
খারাপ সময়ে কোচ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরা অনেক সহযোগিতা করেছেন বলে জানালেন মুস্তাফিজ, ‘খারাপ সময়ে আমাকে সবাই সাহায্য করেছে। সিনিয়র ক্রিকেটার, কোচ, পরিবার মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে। যেটা আমার ফেরার লড়াইটাকে সহজ করে দেয়।’
জিম্বাবুয়ে সিরিজে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললাম, খারাপ হয়নি মোটামুটি। আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে।’

হিমু আক্তার