মাশরাফির ঢাকাকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম
মন্থর উইকেটে ঢাকার ব্যাটসম্যানদের বিপর্যয়। তামিম-এনামুলদের ব্যর্থতার দিনে অল্পতেই গুটিয়ে যায় ঢাকা প্লাটুন। ছোট রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তুলতে পারেননি চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরাও। তবে গেইল-ইমরুলদের ছোট ছোট সংগ্রহের পর মাহমুদউল্লাহ্র দারুণ ফিনিংসে বিপিএলের এলিমিনিটর ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনকে সাত উইকেটে হারাল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিল চট্টগ্রাম। ফাইনালের টিকিট পেতে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজিত দলের মুখোমুখি হতে হবে মাহমুদউল্লাহদের। অন্যদিকে হার নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল মাশরাফির ঢাকা প্লাটুন।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সদের বিপক্ষে আট উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করেছে ঢাকা প্লাটুন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৪ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
আজ সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ঢাকা প্লাটুন। দলীয় ১৫ রানে হারায় ওপেনার তামিম ইকবালকে। ১০ বল মোকাবিলা করে তিন রান করেন তামিম। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যর্থ এনামুলও ব্যর্থ হন। শূন্য রানে তাকে বিদায় করেন নাসুম আহমেদ।
পরের ওভারে লুইসকে সাজঘরে পাঠান চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ্। দারুণ ছন্দে থাকা মেহেদী হাসানও আজ পারেননি দলকে টানতে। তাঁকে বিদায় করেন এমরিত। আগের দিন ৯৪ রান করা মুমিনুল হক কিছুটা দায়িত্ব নেন। বেশিদূর নিতে পারেননি। ৩১ রানে তাঁকেও ফেরান এমরিত।
এরপর ঢাকার ঢাল হয়ে দাঁড়ান শাদাব খান। মাশরাফিকে নিয়ে টিকে থেকে দলকে শেষ পর্যন্ত। শেষ দুই ওভারে মেহেদী হাসান রানা ও জুনায়েদকে তুলোধুনো রে ৩৯ রান করেন তিনি। এই জুটির দৃঢ়তায় নির্ধারিত ওভারে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে ঢাকা প্লাটুন। ঢাকার হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেছেন শাদাব খান। ৪১ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল পাঁচ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায়।
জবাব দিতে নেমে চট্টগ্রামকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার জিয়াউর রহমান ও ক্রিস গেইল। অবশ্য মারকুটে গেইলের চেয়ে বোলারদের উপর বেশি চড়াও হন জিয়াউর। ষষ্ঠ ওভারে চড়াও হওয়া জিয়াউরকে ফেরান মেহেদী হাসান। ৪২ রানে ভাঙে চট্টগ্রাম ওপেনিং জুটি। ১২ বলে ২৫ রান করে ফিরেন জিয়া।
এরপর গেইলের সঙ্গে চট্টগ্রামকে টানেন ইমরুল কায়েস। স্লো উইকেটে গেইল ব্যাকফুটে না খেলতে পারলেও ইমরুল খেলেন আক্রমনাত্মকভাবে। ১৩তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন শাদাব খান। ততক্ষণে ২২ বলে স্কোর বোর্ডে ৩২ রান। ৯১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় চট্টগ্রাম।
১৫তম ওভার পর্যন্ত টিকে ছিলেন গেইল। কিন্তু রানের গতি বাড়াতে পারলেন না। মাত্র ৭৭ স্ট্রাইক রেটে ৪৯ বলে ৩৮ রান করেন গেইল। গেইলকে ফিরিয়ে ঢাকা শিবিরে স্বস্তি ফেরান শাদাব।
কিন্তু এরপরও ছোট রানের লক্ষ্য নিয়ে রক্ষা পেল না ঢাকা প্লাটুন। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহ্-ওয়ালটনদের ব্যাটে চড়ে জয় তুলে নেয় চ্যালেঞ্জার্সরা। মাত্র ১৪ বলে ৩৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ্।
ঢাকা প্লাটুন : ২০ ওভারে ১৪৪/৮ ( তামিম ৩, এনামুল ০, মুমিনুল ৩১, লুইস ০, মেহেদী ৭, জাকের ০, শাদাব ৬৪, আসিফ ৫, পেরেরা ২৫, মাশরাফি ০ ; রুবেল ৪-০-৩৩-২, রানা ৪-০-২৯-০, নাসুম ২-০-১১-০, মাহমুদউল্লাহ্ ২-০-৫-১, এমরিত ৪-০-২৩-৩, জিয়া ৪-০-৩৯-০)।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ ( গেইল ৩৮, জিয়াউর ২৫, ইমরুল ৩২, মাহমুদউল্লাহ্ ৩৪, ওয়ালটন ১২ ; মাশরাফি ৪-০-৩৩-০, মেহেদী ৪-০-২০-১, হাসান ৪-০-৩৫-০, লুইস ২-০-১০-০, পেরেরা ১-০-১১-০, শাদাব ২.৪-০-৩২-২)।
ফল : সাত উইকেটে জয়ী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

ক্রীড়া প্রতিবেদক