ভিনিসিয়াসের সঙ্গে আর্জেন্টাইন ফুটবলারের বর্ণবাদী আচরণ, তদন্তে নতুন মোড়
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এই তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত আর্জেন্টাইন ফুটবলার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি বর্ণবাদের অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্য এক আপত্তিকর গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) লিসবনে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের ম্যাচে ভিনিসিয়াসের করা গোলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিনিসিয়াসের অভিযোগ ছিল, প্রেস্তিয়ান্নি তাকে ‘বানর’ বলে গালি দিয়েছেন। এর জেরে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।
রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি নিজ কানে প্রেস্তিয়ান্নিকে পাঁচবার ভিনিসিয়াসকে ‘বানর’ বলতে শুনেছেন।
খেলাধুলাভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন জানিয়েছে, উয়েফার তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন প্রেস্তিয়ান্নি। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি ভিনিসিউসকে ‘বানর’ (মোনো) বলেননি। এর বদলে তিনি একটি সমকামীবিদ্বেষী এবং অত্যন্ত অপমানজনক শব্দ (মারিকোন) ব্যবহার করেছিলেন।
স্প্যানিশ ভাষায় ‘মারিকোন’ শব্দটি কাউকে ‘পুরুষত্বহীন’ বা ‘দুর্বল’ বোঝাতে অত্যন্ত নোংরা গালি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার চুয়ামেনিও জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই প্রেস্তিয়ান্নি মাঠের ভেতর একই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
প্রেস্তিয়ান্নি বর্ণবাদের বদলে সমকামীবিদ্বেষী গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পার পাওয়ার সুযোগ কম। উয়েফার আইন অনুযায়ী, বর্ণবাদ হোক বা সমকামীবিদ্বেষী আচরণ—যেকোনো ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণের শাস্তি একই। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, এমন অপরাধ প্রমাণিত হলে ওই খেলোয়াড়কে কমপক্ষে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হতে পারে।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই ঘটনায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ফুটবল মাঠ থেকে এই ধরণের নোংরা আচরণ দূর করতে হলে প্রেস্তিয়ান্নির শাস্তি হওয়া জরুরি। এটি বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

স্পোর্টস ডেস্ক