প্রথম পরীক্ষায় পাস রিয়াল মাদ্রিদ
আরও একটি শিরোপাহীন মৌসুম পার করার শঙ্কায় রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের সামনে এখন একমাত্র আশা লা লিগা। সেখানেও পিছিয়ে আছে লস ব্লাঙ্কোরা। শিরোপা জিততে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। যার প্রথমটিতে পাস করেছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। হারিয়েছে দেপোর্তিভো আলাভেসকে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনগত রাতে লা লিগার ম্যাচে ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে আলাভেসকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে লেস ব্লাঙ্কোরা। রিয়ালের হয়ে গোল দুটি করেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র আর কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই জয়ে লা লিগায় দুই ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল আরবেলোয়ার দল। এতে অবশ্য পয়েন্ট টেবিলেও কিছুটা স্বস্তি ফিরল। বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান ৬ পয়েন্টে নামিয়ে আনল রিয়াল। ৩২ ম্যাচে ২৩ জয় ও চার ড্রয়ে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। এক ম্যাচ কম খেলে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।
তবে লিগ শিরোপা জিততে এখনো কঠিন পথ পারি দিতে হবে রিয়ালকে। বাকি থাকা ৭ ম্যাচের সবগুলোই জিততে হবে আরবেলোয়ার দলকে। অন্যদিকে, তাকিয়ে থাকতে বার্সেলোনার দিকে। কখন তারা পা হরকাবে।
ঘরের মাঠে এ ম্যাচেও শুরুটা দারুণ করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। উল্টো শুরুর দিকে ভিনিসিয়াস আর কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ে বল গেলেই দুয়ো ধ্বনি দিয়েছেন রিয়াল সমর্থকরা।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। ভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়েও যায় তারা। বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।
এবারের লা লিগার সর্বোচ্চ স্কোরার এমবাপ্পের গোল হলো ২৭ ম্যাচে ২৪টি। আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৪১টি।
ম্যাচের ৪২তম মিনিটে এবার হতাশ করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়াসের পাস বক্সের মধ্যে পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি বাইরে মেরে হতাশ করেন রিয়ালের ফরাসি ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর হতাশ করে ক্রসবার। এডার মিলিতাওয়ের শট লাগে ক্রসবাড়ে।
প্রধমার্ধের যোগ করা সময়ে বড় ধাক্কা খায় রিয়াল। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন মিলিতাও। তার বদলি নামেন আরেক ডিফেন্ডার অ্যান্টোনিও রুডিগার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন ভিনিসিয়াস। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস বক্সের বাইরে পান তিনি। তার সামনে ছিল আলাভেসের একাধিক ডিফেন্ডার। তাদের মাঝ দিয়েই প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরাল শট নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক। গোলের পর দুই হাত উঁচিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করেন ভিনিসিয়াস।
শেষ দিকে রিয়ালের ওপর চাপ বাড়ায় আলাভেস। তার ফলও পায় সফরকারীরা। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান কমায় আলাভেস। তাদের ডিফেন্ডার জনির শট লুনিন ঠেকানোর পর, বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় রেয়ালের ডিফেন্ডাররা। বক্সের বাইরে থেকে সতীর্থের জোরাল শট চমৎকার ফ্লিকে জালে পাঠান মার্তিনেস।

স্পোর্টস ডেস্ক