এত বাজে কবে খেলেছেন মেসি?
৪-০ গোলের স্কোরলাইনটাও যেন ম্যাচের সঠিক আবহ বোঝাতে পারছে না। কারণ ম্যাচের ফলাফল দেখেও বোঝা যাচ্ছে না যে, প্যারিসে পিএসজির বিপক্ষে কতটা অসহায় ছিলেন মেসি-নেইমাররা। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা ডি মারিয়া-কাভানিদের সামনে নিজেদের মেলেই ধরতেই পারেননি বার্সেলেনার তারকারা। এ সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির এমন বাজে পারফরম্যান্স আগে কখনো দেখা গেছে কি না, তা নিয়েও আছে সন্দেহ।
কয়েকটা পরিসংখ্যান দিয়ে বিষয়টা বোঝানো যাক। পুরো ম্যাচে যেখানে বার্সার গোলমুখে ১০টি শট নিয়েছে পিএসজি সেখানে বার্সা নিয়েছে মাত্র একটি। এবার আসা যাক মেসি প্রসঙ্গে। পুরো ম্যাচে নিস্প্রভ ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৮টি পাস করেছেন বার্সার প্রাণভোমরা। যা ম্যাচে সবার চেয়ে কম। এমনকি গোলরক্ষক টের স্টেগেনের চেয়েও দুটি পাস কম মেসির। পুরো ম্যাচে একবারও পিএসজির ডি বক্সে ঢুকতে পারেননি তিনি।
পুরো ম্যাচের ৫৭ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখলেও মাত্র সাতবার প্রতিপক্ষের সামনে নিয়ে শট নিতে পেরেছে বার্সা। ইউরোপিয়ান ফুটবলে পিএসজির আগে বার্সেলোনাকে চার গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল মাত্র পাঁচটি দল। এসি মিলান, ডায়নামো কিয়েভ, ভ্যালেন্সিয়া, চেলসি ও বায়ার্ন মিউনিখ।
গত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম পর্বে বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন। ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সার রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়ান মারিয়া-কাভানিরা। ১৮তম মিনিটে অসাধারণ ফ্রি কিক থেকে গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা। ৪০তম মিনিটে মার্কো ভেরাত্তির পাসে সহজ এক গোল করেন জার্মান মিডফিল্ডার ডাক্সলার। ৫৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি মারিয়া। আর ৭১তম মিনিটে বার্সার কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন এডিসন কাভানি। ২০১৩ ও ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল পিএসজিকে। এবার সেই হারের দারুণ প্রতিশোধ নিল ফ্রান্সের দলটি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দ্বিতীয় লেগে বার্সা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? দ্বিতীয় লেগে বার্সাকে ন্যূনতম ৫-০ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। তবে ইতিহাস কিন্তু তেমনটা বলছে না! কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে প্রথম লেগে চার গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারেনি কোনো দল।

স্পোর্টস ডেস্ক