‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট’ মার্শাল
জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং, কার্টলি অ্যামব্রোস, ইয়ান বিশপদের তুলনায় তাঁকে লিলিপুটই বলা যায়। পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার এই বোলার কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোলারদের একজন। ৮১ টেস্টে ৩৭৬ উইকেট, গড় ২০.৯৫, স্ট্রাইকরেট ৪৬.২২। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে বল হাতে কতটা নিষ্ঠুর ছিলেন ম্যালকম মার্শাল। যত দক্ষ ও সাহসী ব্যাটসম্যানই হোক না কেন, ব্যাট হাতে মার্শালের সামনে কাঁপেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বোলিং অ্যাকশন, বৈচিত্র্য ভয়াবহ গতির কারণে সবার চেয়ে আলাদা ছিলেন মার্শাল।
সোজা না হয়ে শরীরটাকে কিছুটা বাঁকিয়ে বল করতেন ম্যালকম মার্শাল। অ্যাকশন দেখে সুইং আন্দাজ করার কোনো উপায় ছিল না। উইকেটে পড়ার পর বলের গতিটাও বেড়ে যেত, যার ফলে সব সময় বিভ্রান্ত হতেন ব্যাটসম্যানরা। দুই দিকে সুইং করার ক্ষমতা, গতি, বাউন্স সামলাতে গিয়ে হালে পানি পেতেন না গাভাঙ্কার, বোথাম, মার্টিন ক্রোর মতো ব্যাটসম্যানরা। এর সঙ্গে ডেনিস লিলির কাছ থেকে শেখা লেগ কাটারটা আরো বিষময় করে তুলেছিল তাকে। বাহারি সব অস্ত্র দিয়ে মরা পিচেও ঝড় তুলতে পারতেন ম্যালকম মার্শাল।
১৯৫৮ সালের ১৮ এপ্রিল বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করেন ম্যালকম মার্শাল। স্কুলজীবন থেকেই বল হাতে অদম্য হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৭৭-৭৮ সালে ভারত সফরের দলে জায়গা পান তিনি। তখন কেবল একটি মাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচে খেলেছেন এই বোলার। ক্যারি প্যাকার সিরিজ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশির ভাগ তারকা বোলার তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তবে ভারত সফরে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি তিনি। এরপর দল থেকে বাদ পড়ে যান। তারকা বোলারদের ভিড়ে ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পাননি।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফর্ম করার কারণে তাঁকে উপেক্ষা করার সাহস হয়নি নিবাচকদের। এর পরই ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয় মার্শাল অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যানরা তাঁর বিপক্ষে হাঁসফাঁস করতে থাকেন। তারপরও ১৯৮৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি মার্শাল। ‘পুঁচকে’ ভারতের কাছে বিশ্বকাপটা খোয়াতে হয় বিশ্বক্রিকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
পরবর্তী সিরিজেই ভারতের বিপক্ষে চরমতম প্রতিশোধ নেন মার্শাল। গাভাস্কার, শ্রীকান্ত, কপিল দেবদের পাড়াগাঁয়ের ব্যাটসম্যান বানিয়ে তিন টেস্টে ৩৩ উইকেট নেন তিনি। ১৯৮৪ থেকে ৮৮ এই চার বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫টি টেস্টের মাত্র একটিতে জেতে ইংল্যান্ড। বাকি সবগুলোতেই হারতে হয়েছে বোথাম-গ্যাটিংদের। মার্শালকে বিশেষভাবে মনে রাখা হয় ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ড সফরের কারণে। হেডিংলি টেস্টে মাত্র ছয় ওভার বল করার পর ইনজুরিতে পড়েন মার্শাল। তবে ল্যারি গোমসকে সেঞ্চুরির সুযোগ দিতে একসঙ্গে ব্যাট করতে নামেন তিনি। শুধু তাই নয়, বল হাতে ৫৩ রানে ৭ উইকেট নিয়ে দলকেও জেতান মার্শাল।
১৯৯১ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন ম্যালকম মার্শাল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের কোচ থাকার সময় জানতে পারেন, তাঁর শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। এরপর চিকিৎসা শুরু করলেও কাজ হয়নি। ১৯৯৯ সালে ক্যানসারের সঙ্গে আট মাস লড়াই করার পর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন সর্বকালের সেরা এই পেসার।
১৯৯১ সালের আজকের দিনেই ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ম্যালকম মার্শাল।

ওয়াসিফ করিম