শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট রূপকথা
ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার উত্থানকে রূপকথার সঙ্গে তুলনা করলে মোটেও বাড়াবাড়ি হবে না। ভারতীয় উপমহাদেশের অংশ হওয়ায় শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয় আঠারো শতকে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দারিদ্র্যের কারণে আধুনিক ক্রিকেটীয় পথে চলতে কিছুটা দেরি হয় লঙ্কানদের। ১৯৭৯ সালে আইসিসি ট্রফি জেতায় ১৯৮২ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে যায় দ্বীপ দেশটি। তবে বিশ্বকাপে ১৯৭৫ সাল থেকেই অংশ নেয় লঙ্কানরা। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কখনো গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আর সেই দলটাই ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়।
১৯৯৬ সালের আজকের দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা-ডি সিলভারা।
বিশ্বকাপে অন্তত দুবার যারপরনাই অবাক হয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথমবার ১৯৮৩ সালে। সেবার হট ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্ব জয় করে কপিল দেবের ভারত। আর দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালে। ইংল্যান্ড-ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে নাকানিচুবানি খাইয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলে শ্রীলঙ্কা।
তবে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে ভাগ্যের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কলম্বোতে হয় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণ। এলটিটিআইয়ের সেই হামলায় নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার। এর ফলে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপের ওই দুটি ম্যাচে জয়ী ঘোষণা করা হয় শ্রীলঙ্কাকে। টুর্নামেন্ট মাঠে না গড়াতেই কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে যায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।
গ্রুপপর্বে ভারত, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়াকে উড়িয়ে দিলেও লঙ্কানদের আসল লড়াইটা শুরু হয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২৩৫ রান করেছিল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার জন্য এই রানই যথেষ্ট ভেবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিলেন মাইক আর্থারটন। তবে সনৎ জয়সুরিয়ার ৪৪ বলে ৮২ রানের ঝড়ে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে শেষ চারে ওঠে শ্রীলঙ্কা।
সেমিফাইনালে ভারতকে পায় লঙ্কানরা। ইডেন গার্ডেনে শ্রীলঙ্কাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। কারণ ১২০ রানে আট উইকেট হারানো ভারতের নিশ্চিত হার দেখে উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকরা মাঠে আগুন লাগিয়ে দেয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্রিকেটারদের নিয়ে মাঠ ছাড়েন আম্পায়াররা। পরে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় শ্রীলঙ্কাকে।
অন্য সেমিফাইনালে নাটকীয়ভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। লাহোরের গাদ্দফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠান রানাতুঙ্গা। মার্ক টেলরের ৭৪, রিকি পন্টিংয়ের ৪৫ ও মাইকেল বেভানের ৩৬ রানে ভর করে ২৪১ রানের হৃষ্টপুষ্ট স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া।
বড় রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৩ রানেই নেই জয়সুরিয়া ও কালুভিতরানা। গুরুসিংহকে নিয়ে এরপর ১২৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেন ডি সিলভা। গুরু আউট হলেও অধিনায়ক রানাতুঙ্গার সঙ্গে ৯৭ রানের যোগ করে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ নিয়ে আসেন অরবিন্দ ডি সিলভা।

ওয়াসিফ করিম