নিজ দেশেই কী ‘বিদেশি’ মোহাম্মদ আমির?
কিছুদিন আগেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। এরপর ইংল্যান্ডের স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন দেশটির একাধিক ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। ইংল্যান্ডের নতুন পাসপোর্ট পাওয়ায় এখন বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন তিনি।
নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হলেও বিপাকেও পড়েছেন আমির। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার এতদিন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলে এসেছেন। কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় এখন পিএসএলে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
সম্প্রতি উইজডেনের ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে বিষয়টি নিজেই খোলাসা করেছেন আমির। তিনি জানান, জাতীয়তা বদল হওয়ায় আগামী আসরগুলো থেকে পিএসএলে আর পাকিস্তানের স্থানীয় কোটায় খেলার সুযোগ থাকছে না তার।
গত জুনে কাউন্টি দল নটিংহামশায়ার যখন ভাইটালিটি ব্লাস্টের জন্য আমিরের সঙ্গে চুক্তি করে, তখনই তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। নটিংহামশায়ার পরিষ্কার জানিয়েছিল যে, ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকায় কাউন্টি ক্রিকেটে তাকে আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হবে না।
এই সুবিধার কারণেই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলার সুযোগ পান তিনি। এমনকি চলতি বছর ‘দ্য হানড্রেড’-এও ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন আমির।
তবে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে সুবিধা পেলেও পিএসএলে এসে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে আমিরকে। টুর্নামেন্টটির আগামী আসরে আমিরের এই নতুন নাগরিকত্বের সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। এর আগে পিএসএলের সর্বশেষ আসরে রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে ৫ কোটি ৪০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল।
মূলত বাঁধা সৃষ্টি করেছে টুর্নামেন্টের চুক্তির নিয়ম। পিএসএলের নিলামে যেসব খেলোয়াড়কে কেনা হয়েছিল, তাদের সবার সঙ্গেই চুক্তি ছিল দুই বছরের— অর্থাৎ ২০২৬ ও ২০২৭ মৌসুমের জন্য।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী দলগুলো সর্বোচ্চ সাতজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারে। কিন্তু আমিরের ক্যাটাগরি বদল হয়ে যাওয়ায় রাওয়ালপিন্ডি চাইলেও কি তাঁকে আগের শর্তে ধরে রাখতে পারবে?
যদি আমিরকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারের বদলে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তাকে দলে রাখতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে তাদের নির্দিষ্ট বিদেশি কোটা খরচ করতে হবে। যা আগামী মৌসুমের দল গঠনে বেশ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশ্য সবকিছুই এখন ঝুঁলে আছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্তের ওপর। এখন পর্যন্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

স্পোর্টস ডেস্ক