শেষ পর্যন্ত হেরেই গেল বাংলাদেশ
প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েও শেষ পর্যন্ত হারতে হলো বাংলাদেশকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার উইকেটে হেরে গেল মাশরাফির দল। প্রথমে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৫ বল হাতে রেখে ও ছয় উইকেট হারিয়ে সিরিজে টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করল কিউইরা।
সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে নিউজিল্যান্ডকে ২৫৬ রানের মধ্যেই বেধে ফেলতে হতো। ৩৯ রানে নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিটা ভেঙে দিয়ে শুরু থেকে সেই পথেই ছিল বাংলাদেশ। তবে তবে অপরপ্রান্তটা ধরেরাখেন টম ল্যাথাম। কিউই অধিনায়ক বেশ খানিকটা সময় বাধা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের সামনে। দলীয় ১১০ রানে তাকেও ফেরান মুস্তাফিজ। এরপর রস টেলরকে ফিরিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে এনেছিলেন কাটার মাস্টার। তবে নেইল ব্রুম-জিমি নিশাম ভালো একটাজুটি বেধে ম্যাচটা সহজ করে ফেলেন। শেষের দিক কলিন মুনরোর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কারণে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
২৫৮ রানের জবাবে খেলতে নেমে কিউই ইনিংসে প্রথম আঘাতটা হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। বিপজ্জনক হয়েওঠা লুক রনকিকে ফেরান কাটার মাস্টার। মুস্তাফিজকে উড়িয়ে মারতে গিয়েমাহমুদউল্লাহর তালুবন্দি হন রনকি। ২৭ বলে ২৭ রান করেন কিউই ওপেনার।এরপর সাব্বিরের দুর্দান্ত এক থ্রোয়ে রান আউট হন জর্জ ওয়ার্কার। অসম্ভবএক সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন ল্যাথাম। তবে সাব্বিরের দুর্দান্ত থ্রোয়ে উইকেটভেঙে দেন মুশফিক। এর ফলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ওয়াকার। ১৭ রান করেন জর্জওয়াকার।
ব্যাটিংয়ে উদ্বোধন করতে নামা টম ল্যাথাম বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন। রুবেলেরঅসাধারণ এক ডেলিভারিতে আউট হয়ে ফিরে আসেন তিনি। ৬৪ বলে ৫৪ রান করেন এই কিউইওপেনার।এরপর রস টেলরকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের সুইং বুঝতে না পেরে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ২৫ রান করা টেলর। এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৮০ রান যোগ করে ম্যাচটা বাংলাদেশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন জিমি নিশাম ও নেইল ব্রুম। দলীয় ২২৭ রানে রুবেলের বলে ৪৮ রান করা ব্রুম ফিরলেও ম্যাচ ততক্ষণে নিউজিল্যান্ডের পকেটে। বাকি পথটুকু নিবিঘ্নেই পার করে দলটি।
এর আগে বৃষ্টির কারণে সিরিজের প্রথম ম্যাচটা পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় সিরিজে ঘুরেদাঁড়াতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটাতে যেকোনো মূল্যে জয় চায় বাংলাদেশ।‘বাঁচামরার’এমন ম্যাচে ব্যাট হাতে দারুণ করেন ব্যাটসম্যানরা। সৌম্যসরকার, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে কিউইদেরসামনে ২৫৮ রানের লক্ষ্য রাখে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। কারণ টস জিতে বাংলাদেশকেব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। ইংলিশ কন্ডিশনে শুরুটা বেশ সাবধানের সঙ্গেকরেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ৫ ওভারে আসে মাত্র ২৩রান। সেট হওয়ার পর অবশ্য রানের গতি বাড়াতে থাকেন এই দুজন। ১১তম ওভারে দলীয়স্কোরটা ৫০ পার করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্কোরটা যখন আরো বেশি হৃষ্টপুষ্টহচ্ছিল ঠিক তখনই ধৈর্য হারিয়ে বসেন তামিম ইকবাল। দলীয় ৭২ রানে নিশামের বলেউড়িয়ে মারতে গিয়ে মুনরোর তালুবন্দি হন তামিম ইকবাল। আউট হওয়ার আগে ৪২ বলে২৩ রান করেন তিনি। তামিম আউট হলেও অপরপ্রান্তে অবশ্য কিউই বোলারদের হতাশকরেই চলেন সৌম্য সরকার। ৫৩ বলে চারটি চারে অর্ধশতক পূর্ণ করেন বাঁহাতি এইব্যাটসম্যান।
তামিমের বিদায়ের খানিকবাদেই ক্লিন বোল্ড হয়ে ফিরে আসেন সাব্বির রহমান।মিচেল স্যান্টনারের দারুণ একটি বলে বোল্ড হয়ে ফিরে আসেন এই ব্যাটসম্যান।মাত্র ১ রান করেন সাব্বির। এরপর সৌম্য সরকার ও মুশফিকের ব্যাটে সেই চাপটাকাটিয়ে ওঠতে থাকে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ১১৭ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবেআউট হন সৌম্য সরকার। ৬১ রান করে ইশ সোধির বলে টম ল্যাথামের ক্যাচেপ্যাভিলিয়নে ফিরে আসেন সৌম্য।
সৌম্য সরকারের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। বিপদটা আরো বাড়িয়ে তোলেনসাকিব আল হাসান। সোধির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে মাত্র ৬ রান করেনবিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ১৩২ রানে চার উইকেট হারানো টাইগারদের এগিয়ে নিয়েযাওয়ার দায়িত্বটা তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। সঙ্গী এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।এই জুটিতে ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফ সেঞ্চুরিটা তুলে নেন মুশি। অন্যদিকে গতম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই ম্যাচেও তাঁর দুর্দান্তফর্মটা ধরে রাখেন।
হাফ সেঞ্চুরির পর আর বেশি দূর এগোতে পারেননি মুশি। নিশামের বলেউইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৬৬ বলে ৫৫ রান করেনতিনি। মুশফিকের বিদায়ের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে স্কোরের চাকাটাসচল রাখেন মাহমুদউল্লাহ। আজ শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিংকরতে থাকেন সৈকত। মাহমুদউল্লাহ রয়েসয়ে খেললেও সৈকত খেলে চলেছেন নিজের সুনামধরে রেখেই। এই জুটিতে আসে ৬১ রান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫১ রান করে ফিরেযান। এ ছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত করেন ৪১ রান।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৭ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।জিততে হলে কিউইদের করতে হবে ২৫৮ রান। বলাই বাহুল্য, ব্ল্যাক ক্যাপসদেরকাজটা মোটেও সহজ হতে দেবেন না মুস্তাফিজ-মাশরাফিরা।

স্পোর্টস ডেস্ক