এই ভালোবাসাই মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনদের ফাইনালে ওঠার পুঁজি
বাংলাদশের যে প্রান্তেই যান না কেন, সব শ্রেণির মানুষের চোখেই মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনরা নায়ক। ব্যত্যয় ঘটে না দেশের বাইরে গেলেও। যেখানেই ক্রিকেট, সেখানেই নায়ক টাইগাররা। ইংল্যান্ডেও মিলল এই কথার প্রমাণ। কার্ডিফ থেকে বার্কিংহামে ফেরার পথে কিউই নারী নিকোলার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন মাশরাফি-তাসকিনরা। ছোট একটি মেয়ে ফারাহ ছুটে এসেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে। পাগল কয়েকজন ভক্ত এসে সাকিব-সাব্বিরদের আকুতির সুরে বললেন, ‘ভাই যেভাবেই হোক ফাইনালে কিন্তু যাওয়া চাই। অনেকদিন হলো দেশে ফেরা হয় না। দেশের জন্য মন কাঁদে। আমাদের এই কথাটা রাখবেন কিন্তু ভাই।’
সেমিফাইনাল খেলতে এখন বার্কিংহামে মাশরাফিরা। প্রতিপক্ষ ভারত। এজবাস্টনের ভারতীয়দের সংখ্যাটা অনেক। কোহলিরা সেমিফাইনালে যাবে এটা আগেই থেকেই হিসেব করে রেখেছিল ভারতীয় সমর্থকরা। তাই আগে থেকেই তারা কার্ডিফ ও বার্কিংহামের প্রায় সব টিকেট কিনে রেখেছে। বাংলাদেশি সমর্থকরা টিকিটের জন্য হাহাকার করছে। প্রবাসী এক বাংলাদেশি জানালেন, সেমিফাইনালের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। এতে মন খারাপ হলেও, বাংলাদেশ যে ফাইনালে খেলবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই এই ক্রিকেটভক্তের।
বাংলাদেশ ফাইনালে যাবে বন্ধু ও ভারতীয় পরিচিতদের সঙ্গে বাজি ধরেছেন তিনি। ইউসুফ নামে এই ক্রিকেট পাগল ভদ্রলোক বলেন, ‘মনে রাখবেন, হঠাৎ করেই ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কারা বিশ্বকাপ জিতেছিল। ১৯৯৬ সালে কে ভেবেছিল, শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ জিতবে। এবার আমাদের সময়। দেখলেন তো কিভাবে প্রকৃতিও আমাদের জয়ে কথা বলল। বড় উপলক্ষের ছোট আলামত এগুলো। আশা করছি, ১৮ তারিখের ফাইনালে আমরাই খেলব।’
দেশের কথা তো বলাই বাহুল্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফি-তামিম-সাকিবদের প্রশংসায় হাজার হাজার লাইন লিখে চলছেন দেশের ক্রিকেটভক্তরা। লাখো কোটি সমর্থকের ভালোবাসা রয়েছে মাশরাফিদের সঙ্গে। আইসিসির ইভেন্টে এই প্রথম সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞতা তাই একেবারে শূন্য। তবে এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে ফাইনালে ওঠার রসদ সংগ্রহ করবে টাইগাররা। এমনটাই আশা করছে দেশের ক্রিকেটভক্তরা।

স্পোর্টস ডেস্ক