পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘নতুন বসন্ত’
বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়। তার পর বাংলাদেশ সফরে নাকাল হওয়ার যন্ত্রণা, ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও পরাস্ত হওয়ার লজ্জা। পাকিস্তানের ক্রিকেট একেবারে হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে ছিল। তবে শ্রীলঙ্কা সফরে দারুণ সফল ইমরান-মিয়াঁদাদ-আকরামদের দেশ। টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। এ যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘নতুন বসন্ত’।
বাংলাদেশ সফরে চরম হতাশার পর পাকিস্তান যেন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পই লিখেছে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তার আগেই অবশ্য গত মে মাসে একঝলক স্বস্তির সুবাতাস বয়ে গেছে দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনে। ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তিনটি ওয়ানডে খেলতে পাকিস্তান সফরে গেছে জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচ সহজেই জেতার পর শেষ ম্যাচ হতে দেয়নি বৃষ্টি।
তবে শ্রীলঙ্কা সফরের সাফল্য এর কাছে কিছুই নয়। এ যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়ে সাফল্যের পথে অগ্রযাত্রা। তার পর ওয়ানডে সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয়। সর্বশেষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কা হোয়াইটওয়াশ।
শনিবার রাতে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জয় দারুণ নাটকীয়, রোমাঞ্চকর। ১৭৩ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অষ্টম ওভারে ৪০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় পড়ে যায় অতিথিরা। কিন্তু অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি (২২ বলে ৪৫), আনোয়ার আলী (১৭ বলে ৪৬) ও ইমাদ ওয়াসিমের (১৪ বলে অপরাজিত ২৪) ঝড়ো ব্যাটিং চার বল হাতে রেখে এক উইকেটের জয় এনে দেয় পাকিস্তানকে।
এমন অসাধারণ জয়ে আফ্রিদি আবেগাপ্লুত। খেলা শেষে দলের তরুণ ক্রিকেটারদের ভূয়সী প্রশংসা করে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের মন্তব্য, ‘আমি দারুণ কয়েকজন ছেলেকে পেয়েছি। তাদের জন্যই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।’

স্পোর্টস ডেস্ক