রংপুরে যে একজন মাশরাফি আছেন!
কাকতালীয়ই বলা যায়। দুটি ম্যাচের চিত্রটা প্রায় একই ধরনের। আগের ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে ১৭৬ রান করেছিল চিটাগং। স্লো উইকেটে ম্যাককালাম ও গেইল ভালো ছন্দে ছিলেন না। ম্যাককালাম আউট হলে নিজেকে ব্যাটিং অর্ডারে এগিয়ে আনেন মাশরাফি। দশম ওভারের চতুর্থ বলে ম্যাশ যখন ফিরে যান, তখন রংপুরের রান ৯১! ১৭ বলে ৪২ রান করেন রংপুর অধিনায়ক। শেষ দিকে থিসারা পেরেরার তাণ্ডবে ম্যাচটা জিতে নেয় রংপুর।
আজ সিলেট করল ১৭৩ রান। শুরুতেই ফিরল গেইল। ম্যাককালামকে ওপেনে না পাঠিয়ে একটা জুয়া খেললেন মাশরাফি। ফ্রি হিটিংয়ের পরামর্শ দিয়ে জিয়াউরকে পাঠালেন গেইলের সঙ্গী হিসেবে। ১৮ বলে ৩৬ রান করে রংপুরের জন্য ম্যাচটা সহজ করে দিলেন এই ব্যাটসম্যান। আর পেরেরার জায়গায় নেমে মাশরাফি করলেন ১০ বলে ১৭! এই ম্যাচেও জয়ী দলের নাম রংপুর রাইডার্স।
শাহরিয়ার নাফীসকে বসিয়ে জিয়াউর রহমানকে মূল একাদশে এনে ম্যাচের শুরুতেই মাশরাফি একটা জুয়া খেলেছিলেন। আগের ম্যাচগুলোতে সোহাগ গাজীও কিন্তু ভালো খেলছিলেন। তবে আজ নাজমুল ইসলাম অপুকে নিয়ে আরেকটা ঝুঁকিপূর্ণ চাল চাললেন ম্যাশ। পেরেরা নেই, তাই অগত্যা সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে খেলাল রংপুর।
জুয়ার দুটি চালেই সফল মাশরাফি। শুরুতেই তিন উইকেট নিয়ে সিলেটকে কিনারে ঠেলে দেন সোহাগ গাজীর বদলে নামা অপু। ব্যাটিংয়ে তিনে নেমে এই ম্যাচে ‘মাশরাফি’ হয়ে উঠলেন জিয়া। আর ব্যাটিংয়ের শেষ দিক বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে পথ হারানো রংপুরের জন্য শেষ দুই ওভারে আগের ম্যাচের ‘থিসারা পেরেরা’ হয়ে উঠলেন মাশরাফি। শেষ দুই ওভারে দুটি ছয় মেরে রংপুরকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দলীয় অধিনায়ক।
বলতেই পারেন, গত দুটি ম্যাচে ভাগ্যের সহায়তা পেয়ে জিতেছে রংপুর। তবে এটা তো মানবেন, ভাগ্য বিজয়ীদের পক্ষেই থাকে। আর যে দলে মাশরাফির মতো অদম্য ক্রিকেটার আছে, ভাগ্যও তো তাদের পক্ষেই কথা বলবে, এতে অবাক হওয়ার কী আছে!

স্পোর্টস ডেস্ক