১০ উইকেটে হারের ‘ডজন’ পূর্তি
ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই। প্রথম তিন ম্যাচেই এসেছে বোনাস পয়েন্টসহ জয়। তৃতীয় ম্যাচটার আগে কি তাই একটু আত্মতুষ্টিই এসে গেল টাইগারদের ভেতরে! সে আত্মতুষ্টি অবশ্য বয়ে আনেনি কোনো ভালো ফল। উল্টো ফাইনালের আগে বাংলাদেশ হোঁচট খেল বড় পরাজয়ে।
চলমান সিরিজে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বাংলাদেশ পেয়েছে নিজেদের ইতিহাসে রানের হিসাবে সবচেয়ে বড় জয়। সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ১০ উইকেটের বড় পরাজয়!
ওয়ানডেতে ১০ উইকেটের ব্যবধানে পরাজয় নতুন কিছু নয় বাংলাদেশের জন্য। এর আগেও ১১ বার বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে ১০ উইকেটে। শ্রীলঙ্কা ১২তম বারের জন্য বাংলাদেশকে হারাল ১০ উইকেটে।
ওয়ানডের লড়াইয়ে বাংলাদেশ প্রথম ১০ উইকেটের পরাজয় দেখেছিল ২০০২ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা বেনোনিতে বাংলাদেশের ১৫৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করছিল সবকটি উইকেট হাতে রেখেই। প্রোটিয়ারা মোট তিনবার টাইগারদের বিপক্ষে পেয়েছে ১০ উইকেটের জয়। শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারাল এই নিয়ে তৃতীয়বার।
অবশ্য চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দলের ১০ উইকেটের জয়টা খুব একটা অস্বাভাবিক ছিল না। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ যে গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৮২ রানে! ওয়ানডেতে এই নিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার শত রানের নিচে অলআউট হলো টিম টাইগার্স। সব মিলিয়ে বছর চারেক পর বাংলাদেশ দেখল একশর নিচে স্কোর।
সব মিলিয়ে ম্যাচে বল গড়িয়েছেই মাত্র ৩৫.৫ ওভার! ৮৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা শ্রীলঙ্কা দল ছুঁয়েছে ৭১ বলেই! ২২৯ বল হাতে রেখে পাওয়া লঙ্কানদের এই জয় বলের হিসেবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। ২০০৭ সালে ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের ঝড়ে নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে সাকিবদের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল ২৬৪ বল হাতে রেখেই।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১০ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছিল গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে। সে ম্যাচের কথা চিন্তা করলে অবশ্য একটু স্বস্তিই পাবে মাশরাফির দল। কিম্বার্লিতে সেদিন ২৭৮ রানের পুঁজি গড়েও হাশিম আমলা আর কুইন্টন ডি ককের জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ হেরেছিল বড় ব্যবধানে। স্কোরকার্ডে ৮২ রান তুলে ১০ উইকেটে পরাজয়ের দুঃখ তো সে তুলনায় নস্যি!

স্পোর্টস ডেস্ক