বিশ্বকাপ ট্রফি : একদিকে ব্রাজিলের ইতিহাস, অন্যদিকে ট্র্যাজেডি
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল। ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করেছে সেলেসাওরা। একমাত্র দল হিসেবে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সবগুলো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে হলুদ জার্সিধারীরা। গড়েছে অনেক অনেক রেকর্ড। যে রেকর্ড নেই অন্য কোনো দেশের। সবমিলিয়ে সেলেসাওদের রয়েছে রাজকীয় ইতিহাস। মুদ্রার আরেক পিঠে আছে ট্র্যাজেডি।
১৯৫৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ উদযাপন করে ব্রাজিল। পরের বিশ্বকাপও যায় তাদের ঘরেই। ৯৬২ সালের বিশ্বকাপ জিতে টানা দুই বিশ্বকাপ জয় করে ব্রাজিল। পরের আসর বাদ গেলেও ১৯৭০ সালে ফের ট্রফি ঘরে তোলে ব্রাজিল। এতেই যে কীর্তি তারা গড়েছে, তা আজ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি কেউ।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে তাদের একেবারে দিয়ে দেওয়া হতো বিশ্বকাপের ট্রফি। টানা তিনবার বিশ্বকাপ জিতে আসল ট্রফি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা।
এরপর এক নিদারুণ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছে ব্রাজিলকে। একেবারে নিজেদের করে নেওয়া বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো থেকে চুরি হয় ট্রফি। এরপর অনেক খোঁজাখুজি করেও শেষ পর্যন্ত আর পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে জানা যায়, চুরির নেপথ্যে মূল হোতা ছিলেন সার্জিও পেরাল্টা নামে এক ফুটবল এজেন্ট। তার নির্দেশে লুইস বিগোদ ও চিকো বার্বুডো নামের দুজন ব্যক্তি সরাসরি চুরিতে অংশ নেয়। পরে পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, জুয়ান কার্লোস হার্নান্দেজ নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ট্রফিটি গলিয়ে ফেলার কাজ করেছিলেন। অপরাধীরা ধরা পড়লেও ট্রফিটি আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অনেকেরই ধারণা, চোরেরা সোনায় বাঁধানো ট্রফিটি নিয়ে গলিয়ে ফেলেছে। যদিও এটি নিয়ে বিতর্ক আছে অনেক। কারণ এটি স্বর্ণ হিসেবে বিক্রি করলে খুব একটা লাভ হবে না।
আসল ট্রফিটি হারিয়ে যাওয়ার পর ১৯৮৪ সালে ব্রাজিলের জন্য একটি রেপ্লিকা ট্রফি তৈরি করা হয়। বর্তমানে ব্রাজিলের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে সেটি।

স্পোর্টস ডেস্ক