‘সাকিবের অভাব পূরণ করা কঠিন’
এই কিছুদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোটে আক্রান্ত হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কনিষ্ঠা আঙুল ফেটে গিয়েছিল তাঁর, শেষ পর্যন্ত করাতে হয়েছে সেলাই। যে কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের দলে বাইরে তিনি। প্রথম টেস্টে সাকিবের অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও সেটা মেনে নিচ্ছেন একবাক্যে। তাঁর মতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করা বেশ কঠিনই।
চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ‘ব্যাটসম্যান’ সাকিব থেকেও বাংলাদেশ বেশি ভুগেছে ‘বোলার’ সাকিবের অভাবে। শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে গড়েছে ৭১৩ রানের পর্বত। সাকিব থাকলে কাজটা কঠিনই হতো। তা ছাড়া তাইজুল ও মিরাজরা পেতেন একজন অভিভাবক। হয়তোবা লঙ্কান ইনিংসটা পাহাড়সম হতো না।
আজ বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিবেরই অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক বনে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ। জানালেন তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডারের অভাবটা ভালভাবেই বোধ করছেন তিনি, ‘সাকিবের অভাব পূরণ করা অবশ্যই কঠিন। সে আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। সে দলে থাকলে একটা ভারসাম্য থাকে। কারণ সে একইসঙ্গে বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান ও বিশ্বমানের বোলার। সব দিক থেকে পরিপূর্ণ একজন ক্রিকেটার।’
বাংলাদেশের জয় পাওয়া শেষ দুই টেস্টেরই সেরা খেলোয়াড়ের নামটা সাকিব। আপাতত সিরিজের শেষ টেস্টেও মাহমুদউল্লাহদের নামতে হচ্ছে বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে ছাড়াই। সাকিবের অভাব অপূরণীয় হলেও স্পিনারদের সবার চেষ্টাই এনে দেবে লড়াই করার শক্তি। এমনটাই মনে করছেন দলনায়ক, ‘আমাদের যে স্পিন আক্রমণ আছে, তাদের ওপর আমার আস্থা আছে। যদিও সাকিবের অভাব পূরণ করা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। তারপরও সবাই মিলে চেষ্টা করলে কিছুটা হলেও ভালো করা যেতে পারে।’
দ্বিতীয় টেস্ট তো বটেই অধিনায়ককে ছাড়া বাংলাদেশকে মাঠে নামতে হতে পারে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যান্ডেজ খুললেও মাঠে নামতে নামতে সাকিবের লেগে যাবে আরো তিন-চার দিন। তাই ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় থাকা প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার রয়ে যাচ্ছেন অনিশ্চিতই।

ক্রীড়া প্রতিবেদক