আমিনুলের সেই অবিস্মরণীয় শতক
টেস্ট ক্রিকেটের বয়স প্রায় ১৩৮ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে অজস্র কীর্তি আর অর্জনে ধন্য হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো আর সবচেয়ে দীর্ঘ সংস্করণ। এ পর্যন্ত অভিষেক টেস্টে শতক করেছেন ১০১ জন ব্যাটসম্যান। মানে এখানেও ‘সেঞ্চুরি’!
তবে এই ১০১ জনের মধ্যে তিনজন আলাদা জায়গায় থাকবেন। নিজের তো বটেই, দেশের অভিষেক টেস্টেও শতক করেছিলেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান, জিম্বাবুয়ের ডেভ হটন আর বাংলাদেশের আমিনুল ইসলাম বুলবুলের তাই আলাদা সম্মান প্রাপ্য। টেস্ট অভিষেকের দেড় দশক পূর্তিতে আমিনুলকে কুর্নিশ জানাতেই হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।
২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। আমিনুল যখন ক্রিজে এসেছিলেন, ৪৪ রানে দুই ওপেনার মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনকে হারিয়ে স্বাগতিক দল তখন বেশ অস্বস্তিতে।
তবে আমিনুল আর হাবিবুল বাশার সুমনের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি দূর হতে সময় লাগেনি। ৭১ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে হাবিবুল আউট হয়ে গেলেও প্রথম দিন আমিনুলকে ফেরাতে পারেননি কোনো ভারতীয় বোলার। প্রথম দিন শেষে আমিনুলের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল অপরাজিত ৭০ রান। বাংলাদেশও দাঁড়িয়েছিল ছয় উইকেটে ২৩৯ রানের স্বস্তিকর অবস্থানে।
পরদিন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আমিনুলের শতক করে ইতিহাসে পৌঁছে যাওয়া। তবে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেও তিনি থেমে যাননি। নিজের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান ১৪৫ রান পর্যন্ত। ৫৩৫ মিনিট দীর্ঘ, ৩৮০ বলে খেলা দুর্দান্ত ইনিংসটা গড়ে উঠেছিল ১৭টি চারে। আমিনুলের সৌজন্যেই অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করতে পেরেছিল বাংলাদেশ।
আর মাত্র ২১ রান করতে পারলে আরেকটি কীর্তিও গড়তে পারতেন আমিনুল। দেশের অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করার কৃতিত্ব ব্যানারম্যানের। ১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬৫ রান করেছিলেন এই অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান। ম্যাচটা ইতিহাসের প্রথম টেস্টও ছিল। ব্যানারম্যানের পরেই আমিনুলের ১৪৫ রানের অবস্থান। ১৯৯২ সালে ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্টে হটন করেছিলেন ১২১ রান।
একটুর জন্য ব্যানারম্যানকে পেছনে ফেলতে না পারলেও আমিনুলের কীর্তি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। অভিষেক টেস্টে তাঁর সেই চমৎকার ইনিংসই সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল বাংলাদেশকে।

স্পোর্টস ডেস্ক