নেইমারের অবসর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন তার বাবা
চোট আর নেইমার জুনিয়রের ফুটবল ক্যারিয়ার—দুটির চলা সমান্তরালভাবে। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। যে আশার বাতি হয়ে ব্রাজিল ফুটবলে দেখা দিয়েছিলেন তিনি, তার ছিঠেফোটাও পূরণ করতে পারেননি এই চোটের কারণে।
নেইমার যেই পরিমাণ চোটে পড়েছেন অন্য কোনো ফুটবলার হলে হয়তো আরও আগেই তার ক্যারিয়ারে ফুলস্টপ পড়ে যেতো। কিন্তু কঠিন মানসিকতার নেইমার এখনও টিকে আছেন। কিন্তু এভাবে আর কত? সম্প্রতি নেইমারের মনেই এসেছিল এমন প্রশ্ন। তুলে রাখতে চেয়েছিলেন বুট জোড়া। এমনটাই জানিয়েছেন নেইমারের বাবা ও এজেন্ট নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র।
গত নভেম্বরে যখন তার জাতীয় দলে ফেরার গুঞ্জন চলছিল, ঠিক তখনই নতুন চোটের আভির্ভাব ঘটে। নেইমারের মেনিস্কাসে চোট ধরা পড়ে। অবশ্য সেই চোট নিয়েই তিনি সান্তোসের হয়ে কঠিন সময়ে মাঠে নেমেছেন, গোল করেছেন, দলকে রেলিগেশন থেকে বাঁচিয়েছেন। গত ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়।
চোটের এই সময়টাতেই নেইমার ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেসময় তার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সেটি রাফা টেসলা টি-এক্সপেরিয়েন্সিয়াস রেইস-এর সঙ্গে ইউটিউব সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নেইমার সিনিয়র।
নেইমার জুনিয়রের বাবা নেইমার সিনিয়র বলেন, সে মেনিস্কাসে চোট পেয়েছিল। আমরা তার সঙ্গে কথা বলার আগেই সংবাদমাধ্যম সেটা ফাঁস করে দিয়েছিল। এজন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে। আমি আমার ছেলের বাসায় গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, ‘কেমন আছ?’
সেসময় কেমন ছিল নেইমারের অবস্থা সেটি জানিয়ে নেইমার সিনিয়র বলেন, সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি আর পারছি না, চলো অস্ত্রোপচার করাই। বাবা আমি জানি না এটা অস্ত্রোপচার করলে ভালো হবে কি না। মনে হচ্ছে যথেষ্ট হয়েছে।’
নেইমারের ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই জেতা হয়েছে, তবে এখনও অধরা একটা বিশ্বকাপ শিরোপা। নেইমারের সেই কঠিন সময়ে তার বাবা তাকে পরামর্শ দিয়েছিল- মাঠে ফিরে সমালোচকদের জবাব দেওয়া এবং বিশ্বকাপ মিশনের স্বপ্ন পূরণ করা।
নেইমার সিনিয়র বললেন, আমি বলেছিলাম, তুমি যদি অস্ত্রোপচার করাতে চাও, তাহলে আমরা সেরে ওঠার দিকে মন দিতে পারি। তুমি সুস্থ হয়ে যাবে, আমি তোমার সঙ্গে আছি।
বাবার এমন কথা শুনেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন নেইমার। হাল ছেড়ে দিতে চাওয়া নেইমার পরের দিন অনুশীলনে যোগ দেন। পরে সান্তোসের শেষ চারটি ম্যাচ খেলতে নেমে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সান্তোসকে রেলিগেশন থেকে বাঁচান।
এসব নিয়ে নেইমারের বাবা বলেন, পরের দিন সকালে সে ট্রেনিং শুরু করল, বাঁ পা, ডান পা দিয়ে শট নিলো। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পারব।’ তারপর খেলতে নেমে গোল করল। আমার দিকে তাকিয়ে তখন বলল, সে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।
আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ব্রাজিলিয়ান সিরি আ শুরুর আগে সেরে উঠবেন নেইমার। তিনি ব্রাজিলের শীর্ষ গোলদাতা। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন।

স্পোর্টস ডেস্ক