নেইমারকে বিশ্বকাপে খেলাতে বিশেষ পরিকল্পনা সান্তোসের
ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। বয়স ৩৪ বছর। ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্যা আর্থ’ খ্যাত ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র মাস দুয়েক। চোট জর্জরিত ব্রাজিল তারকার এটাই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু এখনও নেইমারের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে কাটেনি শঙ্কা।
সেই শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মার্চ উইন্ডোতে বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই ম্যাচের স্কোয়াডে তার না থাকা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সাফ কথা, বিশ্বকাপে খেলতে হলে শতভাগ ফিট হয়েই খেলতে হবে নেইমারকে ।
নেইমারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে এবার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে তার ক্লাব সান্তোস। মূল লক্ষ্য একটাই, ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া ফিটনেস শর্ত পূরণ করে নেইমারকে জাতীয় দলে ফেরানো।
আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে আনচেলত্তির। এর আগে নেইমারকে চেনা ছন্দে ফেরাতে মরিয়া তার শৈশবের ক্লাবটি। সেজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ এক চিকিৎসা পদ্ধতি।
জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর আগে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা দো ব্রাজিল ও কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে মোট ১৪টি ম্যাচ রয়েছে সান্তোসের। ক্লাব কর্তৃপক্ষ চাইছে, এই ১৪ ম্যাচের মধ্যে অন্তত ১৩ টিতেই তাকে মাঠে রাখতে।
এর মাধ্যমে তার ম্যাচ ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শরীরকে অতিরিক্ত ধকল থেকে বাঁচাতে আগামী বুধবার দেপোর্তিভো কুয়েঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করতে পেশি ও কোষের দ্রুত পুনর্গঠনের জন্য আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ‘পিআরপি’ (প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা) ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে খেলোয়াড়ের নিজের রক্ত ব্যবহার করেই চোট সারিয়ে তোলা হয়। ফিটনেস পুনরুদ্ধারে কোনো ছাড় দিচ্ছেন না নেইমার নিজেও, প্রতিদিন দুই বেলা করে কঠোর অনুশীলন করছেন তিনি।
সান্তোসের কোচ কুকা বলেন, ‘বছরের মাঝামাঝি বিরতির আগে বাকি ১৩টি ম্যাচ যেন সে পুরো উদ্যমে খেলতে পারে, সেজন্যই এখন তাকে কিছুটা বিশ্রাম ও বিশেষ যত্ন দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মেডিকেল ও ফিজিওলজি বিভাগ সমন্বিতভাবে তার ওপর কাজ করছে।’
সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলেও সামনে কিছু কঠিন বাধাও রয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে চিন্তিত সান্তোস। কারণ পালমেইরাসের মাঠের কৃত্রিম ঘাসে খেলা নেইমারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্পোর্টস ডেস্ক