জিম্বাবুয়েকে ২৭৭ রানের চ্যালেঞ্জ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু দুজনেই ৭৩ রান করে সাজঘরে ফেরার পর হঠাৎ করেই পথ হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। ২ উইকেটে ১৯০ থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ৬ উইকেটে ২২৬। শেষ ছয় ওভার অবশ্য ভালো ব্যাটিং করে দলকে ৯ উইকেটে ২৭৬ রান এনে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটিতে তামিমের সঙ্গী ছিলেন ইমরুল। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে ৩১২ রানের জুটি গড়ে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছিলেন তাঁরা। পাঁচদিনের ক্রিকেটে যেকোনো জুটিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। তবে ওয়ানডেতে এর আগে শত রানের জুটি গড়তে পারেননি তামিম-ইমরুল। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে উদ্বোধনী জুটির ‘সেঞ্চুরি’ করেছেন বাংলাদেশের দুই বাঁ-হাতি ওপেনার। তবে দুজনই নিজেদের শতকের সম্ভাবনা জাগিয়ে আউট হয়ে গেছেন। কাকতালীয়ভাবে দুজনের রানই ৭৩!
৩০তম ওভারে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়া ইমরুল ৯৫ বলের ইনিংস গড়ে উঠেছে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায়। ৩৫তম ওভারে তামিমও ফিরে এসেছেন স্টাম্পড হয়ে। তবে তাঁর ‘ঘাতক’ গ্রেম ক্রেমার। ৯৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল তামিমের ৭৩ রান। ইমরুল-তামিমের মতো মুশফিকুর রহিমও পড়েছেন স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৮ রান। এরপর টানা তিন ওভারে সাজঘরের পথ ধরেছিলেন লিটন দাস (১৭), সাব্বির রহমান (১) ও নাসির হোসেন (০)। মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করতেই চারটি উইকেট হারানোর পর সংগ্রহটা খুব বেশি বড় না হওয়ার আশঙ্কাই ভর করেছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে।
কিন্তু সপ্তম উইকেটে মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহর ২৪ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো জুটি দলকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। ৪৮তম ওভারে ১১ বলে ১৮ রান করে আউট হয়েছেন মাশরাফি। মাত্র এক বল বাকি থাকার সময় রানআউট হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ৪০ বলে ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করার পথে মেরেছেন একটি ছয় ও পাঁচটি চার।
প্রথম দুই ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় আর শেষ ওয়ানডেতেও স্বাগতিক দল প্রথমে ব্যাট করছে, তবে টস জিতে। সিরিজে প্রথমবারের মতো টস-ভাগ্য খুলেছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলই নেমেছে অপরিবর্তিত দল নিয়ে।
সাফল্যের রঙে রঙিন বাংলাদেশের সামনে আবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। গত বছর এই জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেই সাফল্যের পথে যাত্রা করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিশ্বকাপ শেষে পাকিস্তানও একই লজ্জায় পড়েছিল মাশরাফির দলের বিপক্ষে। এর পর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দল
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, মুস্তাফিজুর রহমান ও আল আমিন হোসেন।
জিম্বাবুয়ে দল
এল্টন চিগুম্বুরা (অধিনায়ক), রিজিস চাকাবভা, ক্রেইগ আর্ভিন, চামু চিভাভা, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, ম্যালকম ওয়ালার লুক জংউই, গ্রেম ক্রেমার, তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও তাউরাই মুজারাবানি।

স্পোর্টস ডেস্ক